৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"দেশের খুচরা বাজারে আমদানি করা মাল্টা প্রতি কেজি ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকায় বিক্রির ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। দক্ষিণ আফ্রিকা ও মিসর থেকে ৮৭ টাকায় আমদানিকৃত ফল এত চড়া দামে বিক্রির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অতিরিক্ত শুল্ক ও সরবরাহ ঘাটতির কথা বললেও ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে ফলের বাজার নিয়ন্ত্রণে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- দক্ষিণ আফ্রিকা ও মিসর থেকে প্রতি কেজি প্রায় ৮৭ টাকায় বা সর্বোচ্চ ৭০ সেন্টে আমদানি করা মাল্টা দেশের খুচরা বাজারে ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
- বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ফল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে এই অস্বাভাবিক দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চান।
- আমদানিকারকদের দাবি অনুযায়ী, তাজা ফল আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক মিলিয়ে সর্বমোট করভার প্রায় ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের খুচরা বাজারে আমদানি করা ফলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সম্প্রতি প্রকাশিত এক সংবাদে দাবি করা হয়, দক্ষিণ আফ্রিকা ও মিসর থেকে প্রায় ৮৭ টাকা বা ৭০ সেন্ট প্রতি কেজি দরে আমদানি করা হলুদ মাল্টা খুচরা বাজারে ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ফল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, যেখানে মাল্টার বর্তমান বাজারদর নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং আমদানি মূল্য ও শুল্কের হিসাব চাওয়া হয়।
বর্তমানে দেশে আপেল, আঙুর, কমলা, মাল্টা, বেদানা, নাশপাতি ও খেজুর—এই সাতটি বিদেশি ফল বড় পরিমাণে আমদানি করা হয়। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আঙুর, কমলা ও মাল্টার মতো তাজা ফল আমদানিতে সর্বমোট করভার প্রায় ১২২ শতাংশ বা ১২১.৭৮ শতাংশ। আমদানিকারকদের দাবি, উচ্চ শুল্কহার এবং গত কয়েক মাসে বাজারে চাহিদা কম থাকায় অনেকে আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। এর ফলে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা দাম বাড়াতে মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।
এদিকে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় মানবদেহে পুষ্টি চাহিদা পূরণে মাল্টা ও বেদানার মতো ফলের চাহিদা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু আকাশছোঁয়া দামের কারণে সাধারণ রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এসব ফল কিনতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়ছেন। কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন মনে করেন, কেবল উচ্চ শুল্ক বা আমদানি কম হওয়াই একমাত্র কারণ নয়; বরং পর্যাপ্ত বাজার তদারকির অভাবে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অতি মুনাফা অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাণিজ্যমন্ত্রী জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ফল আমদানি বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র প্রশাসনিক নির্দেশনার পাশাপাশি শুল্ক যৌক্তিকীকরণ এবং কঠোর তদারকি নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে বিদেশি ফলের দাম নামিয়ে আনা কঠিন হবে। জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের মধ্যে পুষ্টিকর ফলের এই চড়া দাম জনজীবনে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার বিবিসি বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।