Mamata Banerjee: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করেন ইন্দ্রনীল সেন?
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) দাবি করেছে, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত তহবিল থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা স্থানান্তর করেছিলেন। ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোয় ভুয়া পাস বিক্রি এবং প্রায় ৮৫ কোটি টাকার টেন্ডার অনিয়মের তদন্ত করতে গিয়ে ইডি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- তদন্তকারী সংস্থা ইডির দাবি অনুযায়ী, মন্ত্রী থাকাকালীন ইন্দ্রনীল সেন নিজের দুই ঘনিষ্ঠ ধ্রুবজ্যোতি বসু ও দীপেশ রায়ের সংস্থাকে প্রায় ৮৫ কোটি টাকার টেন্ডার পাইয়ে দিয়েছিলেন।
- ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা 'অক্টেভ রেকর্ডস'-এর অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ৩০ লক্ষ টাকা সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে ইডি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
- ইন্দ্রনীলের দাবি অনুযায়ী রয়্যালটি বাবদ এই অর্থ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাকাউন্টে গেছে, অন্যদিকে ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ১৭৪৯ থেকে ৫৪৯০ টাকা মূল্যে লক্ষাধিক পাস বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বুধবার কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে দীর্ঘ সাড়ে নয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর ইডির পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, মন্ত্রী থাকাকালীন নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তির সংস্থাকে প্রায় ৮৫ কোটি টাকার সরকারি বরাত পাইয়ে দিয়েছিলেন ইন্দ্রনীল। সেই দুর্নীতি চক্রের অর্থ বিভিন্ন হাত ঘুরে প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেছে।
তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ইন্দ্রনীল সেনের আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণাধীন একাধিক সংস্থায় সেই দুর্নীতির টাকা ঘোরানো হয় এবং পরবর্তীতে নগদ হিসেবে তা তোলা হয়। এরপর ইন্দ্রনীলের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান 'অক্টেভ রেকর্ডস'-এর অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩.৮ কোটি টাকা নগদ জমা করা হয়। ইডির প্রকাশ করা মানি ট্রেইলে উল্লেখ রয়েছে যে, সেই 'অক্টেভ রেকর্ডস' অ্যাকাউন্ট থেকেই ৩০ লক্ষ টাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছিল। তবে এই আর্থিক লেনদেনের পক্ষে সাফাই গেয়ে ইন্দ্রনীল সেন দাবি করেছেন যে, বই বা অন্য কোনো স্বত্ব বাবদ রয়্যালটি হিসেবেই ওই টাকা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল।
তদন্তের মূল সূত্রপাত হয়েছে ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোয় অবৈধভাবে পাস বিক্রির অভিযোগ থেকে। ইডির অভিযোগ, ইন্দ্রনীলপত্নীর সংস্থা 'মাস আর্টস'-এর সঙ্গে কলকাতার বড় কিছু পুজোকমিটির চুক্তি হয়েছিল। ইউনেস্কোর স্বীকৃতিকে অপব্যবহার করে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের দুর্গাপুজোয় ১৭৪৯ টাকা থেকে শুরু করে ৫৪৯০ টাকা মূল্যের এক লক্ষেরও বেশি পাস বিক্রি করা হয়। অথচ ইউনেস্কোর সাথে এই ধরনের কোনো বাণিজ্যিক বা প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তিই ছিল না। এই পুরো প্রক্রিয়াটির পেছনে ইন্দ্রনীল সেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার ছিল বলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে যখন শাসক দলের শীর্ষ নেত্রীর নাম কোনো কেন্দ্রীয় সংস্থার মানি ট্রেইলে উঠে এসেছে, তখন বিরোধী দলগুলো এ নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানাতে শুরু করেছে। আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আইনি লড়াইয়ে এই তদন্ত রাজ্যের রাজনীতিকে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার bengali.abplive.com-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।