পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ও রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনারে বাধা দেওয়ার ঘটনায় দেশের ২৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। গত ২৪ অক্টোবর মারা যাওয়ার পর স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বাধার মুখে প্রায় ১৫ ঘণ্টা তাঁর দাফন আটকে থাকে। পরবর্তীতে গভীর রাতে পুলিশি নিরাপত্তায় ও পরিবারের সহায়তায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। নাগরিকেরা একে মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলেছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গত ২৪ অক্টোবর বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বাধার মুখে প্রায় ১৫ ঘণ্টা তাঁর দাফন আটকে থাকে এবং প্রথমবার খোঁড়া কবর ভরাট করে ফেলা হয়।
- দেশের ২৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক যৌথ বিবৃতিতে এই ঘটনাকে মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন উল্লেখ করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
- পরবর্তীতে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে গভীর রাতে গ্রাম পুলিশের সহায়তায় মোবাইল ফোনের আলোয় পুনরায় কবর খুঁড়ে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ও রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা সৃষ্টির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশের ২৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক। সম্প্রতি গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা এ ঘটনাকে মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন উল্লেখ করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। গত ২৪ অক্টোবর বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাঁর গার্ড অব অনার ও দাফনকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরে সৃষ্ট এই পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মানিক পশারী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে গোপালগঞ্জে মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন এবং সেখানেই তিনি মারা যান। রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদানের মাধ্যমে দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাঁর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাফনে বাধা দেওয়া হয়। প্রথমবার কবর খোঁড়ার পর স্থানীয় নেতাকর্মীরা সেটি ভরাট করে দেন। ফলে প্রায় ১৫ ঘণ্টা তাঁর দাফন আটকে থাকে।
পরবর্তীতে আনুমানিক রাত দুইটার দিকে মানিক পশারীর মেয়ে ও দুই বোন গ্রাম পুলিশের সহায়তায় মোবাইল ফোনের আলোয় আবার কবর খুঁড়ে পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁর দাফন সম্পন্ন করেন। এর আগে পিরোজপুর পুলিশ লাইনে তাঁর মরদেহে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। নাগরিকেরা বিবৃতিতে স্পষ্ট উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্রীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া কোনো ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা কি না, তা নির্ধারণের একমাত্র ক্ষমতা রাষ্ট্রের। কোনো রাজনৈতিক দলের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নেই।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষবিদায়কে ঘিরে এ ধরনের পরিস্থিতি রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। মৃত ব্যক্তির যথাযথ মর্যাদায় সৎকার করা ইসলামসহ সব ধর্মেরই অনুশাসন। বিশিষ্ট নাগরিকেরা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড ফৌজদারি অপরাধের শামিল এবং এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে সামাজিক শৃঙ্খলা আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।