৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"স্মার্টওয়াচ ও ফিটনেস ট্র্যাকার অ্যাপে দৈনিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলে ব্যবহারকারীদের মাঝে হীনমন্যতা, লজ্জা ও হতাশা তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক এক গবেষণায় ৫৮,৮৮১টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৩,৭৯৯টি পোস্টে ব্যবহারকারীরা অ্যাপগুলোর কারণে অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও নেতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) ও লাফবোরো বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় জনপ্রিয় ৫টি ফিটনেস অ্যাপের ৫৮,৮৮১টি পোস্ট বিশ্লেষণ করে ১৩,৭৯৯টিতে নেতিবাচক মানসিক প্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
- ‘ব্রিটিশ জার্নাল অব হেলথ সাইকোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এ গবেষণায় বলা হয়, অ্যাপের অবাস্তব অ্যালগরিদম ও ঘন ঘন নোটিফিকেশন ব্যবহারকারীদের মধ্যে খাবার নিয়ে অপরাধবোধ ও শরীরচর্চায় অনীহা তৈরি করে।
- গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক ড. পাওলিনা বোন্দারোনেক ও ড. লুসি পোর্টার ফিটনেস ট্র্যাকার নির্মাতাদের কঠোর ক্যালরি গণনার পরিবর্তে মানসিক স্বাস্থ্যবান্ধব ও নমনীয় অ্যালগরিদম তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
স্মার্টওয়াচ বা ডিজিটাল ফিটনেস অ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত শরীরচর্চা ও ক্যালরি গ্রহণের হিসাব রাখা আধুনিক জীবনযাত্রায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে প্রতিদিনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে ব্যর্থ হলে এসব ট্র্যাকার ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র হীনমন্যতা, অপরাধবোধ ও লজ্জা তৈরি করছে। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) এবং লাফবোরো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী ‘ব্রিটিশ জার্নাল অব হেলথ সাইকোলজি’তে এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়।
গবেষক দল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনপ্রিয় পাঁচটি ফিটনেস অ্যাপ সম্পর্কিত প্রায় ৫৮ হাজার ৮৮১টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের (সাবেক টুইটার) পোস্ট পর্যালোচনা করেন। বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় ১৩ হাজার ৭৯৯টি পোস্টে ব্যবহারকারীরা সরাসরি অ্যাপ ব্যবহারের নেতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে খাবার গ্রহণের পর ক্যালরির হিসাব লিপিবদ্ধ করার সময় ব্যবহারকারীরা মানসিক অস্বস্তি ও লজ্জাবোধ করেন। এছাড়া অ্যাপগুলোর স্বয়ংক্রিয় ঘন ঘন নোটিফিকেশনে বিরক্তি এবং লক্ষ্যপূরণ না হলে একধরনের তীব্র বিষণ্ণতা তৈরি হচ্ছে।
গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক ড. পাওলিনা বোন্দারোনেক জানান, ফিটনেস ট্র্যাকারগুলোর অ্যালগরিদম বাস্তব জীবনের অনিশ্চয়তা বা ব্যক্তিভেদে শারীরিক সক্ষমতার তারতম্য বিবেচনায় নেয় না। এতে ওজন কমানোর কঠোর পদ্ধতি মানুষকে সুস্থ রাখার বদলে উল্টো মানসিক চাপে ফেলে দেয়। অপর গবেষক ড. লুসি পোর্টার উল্লেখ করেন, অ্যাপগুলোর মূল উদ্দেশ্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা হলেও কঠোর নিয়মের কারণে অনেকেই ধীরে ধীরে শরীরচর্চার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।
মনোবিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্যিক ফিটনেস ট্র্যাকার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত তাদের অ্যালগরিদমে পরিবর্তন আনা। সংকীর্ণ ও কঠোর ক্যালরি গণনার মানসিকতা থেকে বের হয়ে অ্যাপগুলোকে আরও সহানুভূতিশীল, নমনীয় ও মানসিক স্বাস্থ্যবান্ধব করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা, যাতে ব্যবহারকারীরা হতাশ না হয়ে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত হন।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার খবরের কাগজ-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।