কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে ৬০৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করবে সরকার। ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এ প্রকল্পে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক অর্থায়ন করবে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অব্যবহৃত ১৭১ একর জমিতে এটি নির্মিত হবে, যা জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ বাড়াবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৪ কোটি ৯৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা; যার মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৪২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৫৩২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা।
- মাতারবাড়ীর ২ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আল্ট্রা সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানার মধ্যে অব্যবহৃত ১৭১ একর জমিতে এই সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হবে, যা ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
- ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি) বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি সুবিধা কাঠামো ঋণের আওতায় এই প্রকল্পে অর্থায়ন করবে এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ যুক্ত করতে ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ১৩২ কেভি ওভারহেড সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) এরই মধ্যে পর্যালোচনার জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ খাতে গ্রিন এনার্জির অংশীদারত্ব বাড়ানোর বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
প্রস্তাবিত প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৪ কোটি ৯৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হবে ৪২ কোটি ৮৭ লাখ ৬ হাজার টাকা, প্রকল্প ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে ৫৩২ কোটি ৩৯ লাখ ১২ হাজার টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ২৯ কোটি ৭১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি) বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি সুবিধা কাঠামো ঋণের আওতায় এই প্রকল্পে বড় অঙ্কের অর্থায়ন করছে। মাতারবাড়ীর ২ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আল্ট্রা সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত ছাই সংরক্ষণের অব্যবহৃত ১৭১ একর জমিতে এই সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করায় নতুন করে কোনো জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন পড়বে না।
পরিকল্পনা কমিশনের প্রাথমিক মূল্যায়ন ও খসড়া ডিপিপি অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় সৌর ফটোভোলটাইক (পিভি) মডিউল, ইনভার্টারসহ প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে। এছাড়া উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে মাতারবাড়ী ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের সঙ্গে সংযোগের জন্য ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ১৩২ কেভি ওভারহেড সঞ্চালন লাইন এবং মাতারবাড়ী ও চকরিয়া গ্রিডের মধ্যে ১৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় সার্কিটের ওভারহেড কন্ডাক্টর স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নে আমদানীকৃত সরঞ্জাম দ্রুত খালাস ও পরিবহনে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের অবস্থান অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
এই সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর দেশের নির্ভরতা কমাতে এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করতে সাহায্য করবে। এটি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ৭ নম্বর লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরাসরি অবদান রাখবে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে অর্জনের জাতীয় লক্ষ্যের পথে এটি একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।