৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার জেরে নতুন করে শিয়া-সুন্নি সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক কৌশলে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে মেরুকরণ তীব্র হয়েছে। মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ দেশের নীরবতা এবং সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর ভূমিকা এই সংঘাতের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে নতুন করে শিয়া-সুন্নি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
- ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক পদক্ষেপ এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন।
- ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক কার্যক্রমে সৌদি আরবসহ প্রভাবশালী আরব দেশগুলোর নেপথ্য ইন্ধন রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ কৌশল এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত নীতিমালার ফলে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের নতুন মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের চলমান বৈরিতা এবং শিয়া-সুন্নি বিভাজনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কার একপাক্ষিক সিদ্ধান্তগুলো মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রধান ইসলামিক ধারার মধ্যে ঐতিহাসিক দূরত্বকে উসকে দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে।
ইরানের পারমাণবিক উচ্চাভিলাষ এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির ক্রমবর্ধমান প্রক্সি নেটওয়ার্ক মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে যৌথ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তেহরানের কৌশলগত সাইবার সক্ষমতা, ব্যালিস্টিক মিসিল প্রযুক্তি এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ নিয়ন্ত্রণের কারণে মার্কিন সামরিক কৌশলবিদদের হিসাব নিকাশ বারবার উল্টে যাচ্ছে। পেন্টাগন ও সিআইএর নীতিনির্ধারকরা ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাতে জড়ানোর ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক পরিণতি নিয়ে গভীর সংকটে রয়েছে, কারণ এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বের বড় অংশ বিশেষ করে সুন্নি প্রধান দেশগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও জটিল হয়ে উঠেছে। ফিলিস্তিন কিংবা লেবাননের সংকট এবং ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ দেশই প্রত্যক্ষভাবে তেহরানের পাশে দাঁড়ানো থেকে বিরত রয়েছে। এর পেছনে সুন্নি আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ইরানের ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং ঐতিহাসিক সুন্নি-শিয়া বৈরিতা কাজ করছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ওপর সাম্প্রতিক বিভিন্ন আক্রমণ ও কূটনৈতিক চাপে সৌদি আরবসহ কিছু উপসাগরীয় দেশের পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যকে দীর্ঘমেয়াদী sectarian বা সম্প্রদায়ভিত্তিক গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
এই বহুমুখী সংঘাতের বৈশ্বিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্য অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। মধ্যপ্রাচ্যে শিয়া-সুন্নি সংঘাত তীব্র হলে তা কেবল আঞ্চলিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আন্তর্জাতিক তেলের বাজার, বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থবির করে দিতে পারে। বাংলাদেশসহ উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য জ্বালানি আমদানির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থাহীনতা দূর করার পাশাপাশি বৃহৎ শক্তিগুলোর খবরদারি বন্ধ করা জরুরি, অন্যথায় এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এক দীর্ঘস্থায়ী ধ্বংসযজ্ঞের মুখোমুখি হবে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার প্রথম আলো-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।