রাজধানীর মিরপুরে ১৩ নম্বরে পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা। উন্নয়ন সংগঠন ‘নাগরিক উদ্যোগ’-এর আয়োজনে এই মেলায় পাহাড় ও সমতলের বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং কৃষিপণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। শুক্রবার সকালে মেলার উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। শুক্র ও শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- উন্নয়ন সংগঠন ‘নাগরিক উদ্যোগ’-এর আয়োজনে রাজধানীর মিরপুর ১৩ নম্বরের পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ কমপ্লেক্সে দুই দিনব্যাপী এই মেলা শুরু হয়েছে এবং প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকছে।
- রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার শুভ উদ্বোধন করেন।
- মেলায় পাহাড়ের জনপ্রিয় ব্যাম্বু শুট, হেসবাঙ, পাহাড়ি 'পাজন' এবং সমতলের মনিপুরী, গারো ও রাখাইন সম্প্রদায়ের বিনি চালের পিঠাসহ নানা ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীর মিরপুর ১৩ নম্বরে পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা। উন্নয়ন সংগঠন ‘নাগরিক উদ্যোগ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলায় পাহাড় ও সমতলের বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্যবাহী খাবার ও কৃষিপণ্যের বিশাল সমাহার ঘটেছে। শুক্রবার সকালে মেলার উদ্বোধন করেন রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। শুক্র ও শনিবার প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপেন দেওয়ান বলেন, বাংলাদেশ যে বহু জাতিগোষ্ঠীর দেশ, এই মেলার মাধ্যমে সেই অনন্য চিত্রই ফুটে উঠেছে। বর্তমান সরকার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাচ্ছে এবং পাহাড়ে উৎপাদিত পণ্য কীভাবে দেশের সর্বত্র সহজে পৌঁছানো যায়, সে বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ চলমান রয়েছে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মানবাধিকারকর্মী শিরিন পারভিন হক বলেন, আদিবাসীদের খাদ্যপণ্য এখনো অনেকাংশেই নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত। নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা সংরক্ষণের পাশাপাশি আদিবাসীদের জীববৈচিত্র্য ও ভূমির অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন আদিবাসীদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে মূলধারার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তিনি রাজধানী ঢাকায় আদিবাসীদের পণ্য বিক্রির জন্য একটি স্থায়ী ও আলাদা বাজার গড়ে তোলার জোরালো দাবি জানান। মেলায় পাহাড়ের জনপ্রিয় ব্যাম্বু শুট, কলাপাতায় রান্না করা হেসবাঙসহ বিভিন্ন জুমিয়া সবজি এবং পাহাড়ি অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী 'পাজন'-এর স্বাদ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
পাশাপাশি সমতলের মনিপুরী, গারো ও রাখাইন সম্প্রদায়ের ভোজনরসিকদের জন্য সাদা ও কালো বিনি চালের পিঠা এবং সাম্প্রতিক সময়ে বাঙালিদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা 'মুন্ডি' মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। মেলা উপলক্ষে প্রতিদিন সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পাহাড় ও সমতলের ঐতিহ্যবাহী আদিবাসী নৃত্য পরিবেশিত হচ্ছে, যা নগরবাসীর মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।