ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানী ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। এর ফলে মিরপুর ও এর আশেপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। একই সঙ্গে সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলেও বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পোশাকশ্রমিকেরা তাদের বর্তমান বেতন কাঠামোর পরিবর্তে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার এক দফা দাবিতে এই আন্দোলন শুরু করেছেন।
- বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকা অবরুদ্ধ করায় আশেপাশের প্রধান সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজট ও তীব্র জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
- মিরপুরের পাশাপাশি সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল এলাকার বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকেরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেন এবং একপর্যায়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশিল্পের শ্রমিকেরা। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই আকস্মিক অবরোধের কারণে মিরপুর ১০ থেকে আগারগাঁও, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া এবং ইব্রাহীমপুরগামী প্রধান সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে অফিসগামী মানুষ ও সাধারণ যাত্রীরা তীব্র গরমে চরম ভোগান্তির শিকার হন এবং বাধ্য হয়ে অনেককে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা দিতে দেখা যায়।
চলমান এই অসন্তোষ কেবল রাজধানীর মিরপুরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলেও। সেখানেও শ্রমিকেরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে কিছু স্থানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যার ফলে কারখানার ভেতরে ভাঙচুর এবং সড়কে অগ্নিসংযোগের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে তাদের পক্ষে জীবনযাত্রা নির্বাহ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমান বেতন দিয়ে বাড়িভাড়া, সন্তানের লেখাপড়া এবং খাওয়ার খরচ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না বিধায় তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে, মালিকপক্ষ ও পোশাকশিল্পের শীর্ষ সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং কারখানায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ এবং সড়ক অবরোধের ফলে দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই পোশাক খাতের সাপ্লাই চেইন ও উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মালিক পক্ষ ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।