৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে গত বছরের জুলাইয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহমুদুল হাসান মহিনকে হাইকোর্ট থেকে দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। রোববার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের বিচারপতি মো. রেজাউল হক রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গত বছরের ৯ জুলাই মিটফোর্ড হাসপাতালের কাছে রজনী ঘোষ লেনে ৩৯ বছর বয়সী ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগকে কুপিয়ে ও পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়।
- নিহত সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
- প্রধান আসামি মাহমুদুল হাসান মহিনকে হাইকোর্টের দেওয়া ছয় মাসের জামিন আদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালত।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে সংঘটিত লোমহর্ষক ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহমুদুল হাসান মহিনকে হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। রোববার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের বিচারপতি মো. রেজাউল হক রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানির পর এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে আবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, আর রাষ্ট্রপক্ষের আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত বছরের ৯ জুলাই রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের কাছে রজনী ঘোষ লেনে একদল দুর্বৃত্ত প্রকাশ্য দিবালোকে ৩৯ বছর বয়সী সোহাগকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও বারবার পাথর দিয়ে থেঁতলে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় পরদিন নিহত সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে গত ১২ জুলাই ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত এ মামলায় মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেন। বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রধান আসামি মাহমুদুল হাসান মহিন জামিনের আবেদন করলে গত ২৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন এবং তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে একটি রুল জারি করেন। হাইকোর্টের ওই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল ও স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করে।
চেম্বার আদালতের এই স্থগিতাদেশের ফলে মামলার প্রধান আসামির কারামুক্তি আপাতত আটকে গেল, যা বিচারপ্রার্থী পরিবার ও সচেতন মহলে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। প্রকাশ্যে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছেন নিহতের স্বজনরা। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাষ্ট্রপক্ষের এমন সময়োপযোগী ও জোরালো আইনি পদক্ষেপে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পথ আরও সুগম হবে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দ্য ডেইলি স্টার বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।