বকেয়া বেতন ও ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের দাবিতে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক টানা তিন ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন পোশাক শ্রমিকরা। তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলে পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বেলা ১টার দিকে শ্রমিকরা রাস্তা ছাড়েন। নিরাপত্তাঝুঁকিতে সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের ২৬০টির বেশি কারখানা আজকের মতো সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও বকেয়া বেতনের দাবিতে ২৬০টির বেশি তৈরি পোশাক কারখানায় আজকের মতো ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
- টানা তিন ঘণ্টা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখার ফলে ধামরাই থেকে নবীনগর পর্যন্ত তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
- নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম মজুরি কাঠামো কার্যকর করা এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে ফের বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকরা। আজ সকালে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মবিরতি পালন করে রাজপথে নেমে আসেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে অফিসগামী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালায়।
পরিস্থিতির অবনতি রোধ করতে এবং জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুর অঞ্চলের ২৬০টির বেশি পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ আজ দিনের মতো সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। গত কয়েক মাস ধরেই দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন শ্রমিকরা। মালিকপক্ষ ও বিজিএমইএ নেতাদের পক্ষ থেকে আলোচনার আহ্বান জানানো হলেও মাঠপর্যায়ে তার সুরাহা না হওয়ায় অসন্তোষ বাড়ছে।
এদিকে সাভারের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি বেশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। শ্রমিকদের অভিযোগ, ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন করলেই একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল সেখানে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে এবং শ্রমিকদের ওপর দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে মালিকপক্ষের দাবি, অতর্কিত ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হিসেবে পরিচিত তৈরি পোশাক খাতের এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা সামগ্রিক বৈদেশিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা মনে করেন, মালিক, শ্রমিক এবং সরকারের ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি, যাতে একদিকে শ্রমিকদের নায্য অধিকার নিশ্চিত হয় এবং অন্যদিকে উৎপাদনমুখী কারখানাগুলো সচল থাকে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।