রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আসাদগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে নারী ও কিশোরসহ মোট ১৩ জন সক্রিয় ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে সুইচ গিয়ার চাকু ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় ছিনতাই ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা জোরদার করে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আসাদগেট এলাকা থেকে নারী ও কিশোরসহ মোট ১৩ জন ছিনতাইকারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
- অভিযানের সময় আটককৃতদের কাছ থেকে সুইচ গিয়ার চাকু ও বিভিন্ন ধরনের দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
- মোহাম্মদপুর এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়া অপরাধ ও ছিনতাই রোধে তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এবং আসাদগেট এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে নারী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যসহ মোট ১৩ জন সক্রিয় ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত কয়েক দিনে মোহাম্মদপুর থানার বিভিন্ন পয়েন্টে অপরাধপ্রবণতা হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় এই বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মোহাম্মদপুর এলাকার বসিলা, জেনেভা ক্যাম্প, আসাদগেট এবং টাউনহল বাজার সংলগ্ন সড়কে ছিনতাইয়ের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে রাতের বেলা এবং ভোরের দিকে সাধারণ পথচারী ও রিকশাযাত্রীদের জিম্মি করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এই প্রেক্ষাপটে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ওই এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং এই ১৩ সদস্যের সংঘবদ্ধ চক্রটিকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয়।
অভিযানের সময় ধৃতদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি সুইচ গিয়ার চাকু, ফোল্ডিং ছুরি এবং ক্ষুর উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন জনবহুল ও অন্ধকারাচ্ছন্ন সড়কে ছিনতাই করে আসছে। চক্রটিতে কিছু নারী ও কিশোর সদস্যকে ব্যবহারের মাধ্যমে তারা সাধারণ পথচারীদের আকর্ষণ করে ফাঁদে ফেলত এবং সুযোগ বুঝে অস্ত্রের মুখে সর্বস্ব লুটে নিত।
এই সফল অভিযানের ফলে মোহাম্মদপুর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অপরাধ দমনে পুলিশের এই তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য কোনো গডফাদার বা পেছনের চক্রের সন্ধান পেতে রিমান্ডে নিয়ে আসামিদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং মোহাম্মদপুরকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত করতে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।