মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল মোংলা বন্দরে ৪০৬৮ কোটি টাকার নতুন দুইটি কন্টেইনার জেটি, ইয়ার্ড নির্মাণ ও ৪৯টি আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঋণ চুক্তির আওতায় বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মাধ্যমে মোংলা বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০৬৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার বিনিয়োগ করবে ৪৭৫ কোটি টাকা এবং বাকি অর্থায়ন করবে সংশ্লিষ্ট চীনা কোম্পানি।
- প্রকল্পটির আওতায় নতুন দুইটি কন্টেইনার জেটি ও কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মাণের পাশাপাশি পণ্য হ্যান্ডেলিংয়ের জন্য ৪৯টি অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হবে।
- উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের মধ্যে রেলওয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করবেন, যার ফলে মোংলা বন্দর দিয়ে কন্টেইনার রেল সেবা চালু হবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলা পরিদর্শনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল তিনি বন্দরটির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষে প্রায় ৪০৬৮ কোটি টাকার নতুন দুইটি জেটি ও কন্টেইনার ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন আনুষাঙ্গিক নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন। এর আগে গত ২২ অক্টোবর তিনি মোংলা বন্দর পরিদর্শন করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘনঘন সফর ও মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার করেছে এবং বন্দর ব্যবহারকারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা জানান, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকালে এই উন্নয়ন প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক ও ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই বিশাল বাজেটের প্রকল্পে সরকারি তহবিল থেকে ৪৭৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে এবং বাকি অর্থ আসছে চীনা কোম্পানির ঋণ থেকে। প্রকল্পের মূল অবকাঠামোগত কাজের মধ্যে রয়েছে দুটি নতুন কন্টেইনার জেটি, একটি বিশাল কন্টেইনার ইয়ার্ড এবং বন্দর পরিচালনার জন্য ৪৯টি আধুনিক হ্যান্ডেলিং যন্ত্রপাতি সংযোজন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে শুধু জেটি উদ্বোধনই নয়, বরং 'ইনভেস্ট বাংলাদেশ' ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে চুক্তিও স্বাক্ষরিত হবে। এর মাধ্যমে মোংলা বন্দরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে, যা পণ্য পরিবহনে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। রেল সংযোগ চালু হলে মোংলা বন্দর দিয়ে পণ্য খালাস ও পরিবহন দ্রুততর হবে, যা সামগ্রিকভাবে ব্যবসায়ীদের আমদানি-রপ্তানিতে আগ্রহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সরকারের এই দূরদর্শী পদক্ষেপে মোংলা বন্দর অচিরেই চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের একটি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক হাব হিসেবে মোংলাকে প্রতিষ্ঠিত করবে। বন্দরের এই আধুনিকায়ন জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।