৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"২০৩০ সালের মধ্যে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের রপ্তানি আয় শতকোটি ডলারে উন্নীত করতে মেরিকালচার ও কাঁকড়া খাতের সমন্বিত রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে সরকার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৪৫ কোটি ডলার। পাশাপাশি, গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ সুশৃঙ্খল করতে নতুন নির্দেশিকা প্রণয়ন এবং নীল অর্থনীতির প্রসারে বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক বাজারে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের রপ্তানি আয় শতকোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে মেরিকালচার ও কাঁকড়া খাতের জাতীয় নীতিমালা চূড়ান্ত করা হচ্ছে, যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাতের আয় ছিল প্রায় ৪৫ কোটি মার্কিন ডলার।
- সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় কুয়াকাটা ও সালিমপুরকে নতুন সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করায় বর্তমানে দেশে সংরক্ষিত অঞ্চলের সংখ্যা বেড়ে সাতে দাঁড়িয়েছে এবং নীল অর্থনীতির গবেষণায় চলতি বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
- পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবদুল মান্নানের তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরের ২৬টি ব্লকে আকর্ষণীয় শর্তে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের প্রস্তাব রাখা হয়েছে এবং ২০২৬ সালের অফশোর বিডিং রাউন্ডকে কেন্দ্র করে নীতিমালায় বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বৈশ্বিক বাজারে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের রপ্তানি আয় শতকোটি ডলারে উন্নীত করার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে মেরিকালচার ও কাঁকড়া খাতের সমন্বিত রূপরেখা চূড়ান্ত করছে সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সামুদ্রিক জলজ চাষ ও কাঁকড়া ব্যবস্থাপনা বিষয়ক পৃথক জাতীয় নীতিমালা ও নির্দেশিকার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে জাতীয় অর্থনীতিতে রপ্তানি আয় এসেছে প্রায় ৪৫ কোটি মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় মৎস্য আহরণ সুশৃঙ্খল রাখতে ‘গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ নির্দেশিকা ২০২৬’ চূড়ান্ত করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। এই রূপরেখায় বাংলাদেশের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের লাইসেন্স প্রদান, আহরিত মাছের হিসাব সংরক্ষণ, ডিজিটাল নজরদারি, নাবিকদের সার্বিক নিরাপত্তা এবং অবৈধ মৎস্য আহরণ দমনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রাখা হয়েছে।
সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় কুয়াকাটা ও সালিমপুরকে নতুন সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করায় বর্তমানে দেশে সংরক্ষিত অঞ্চল ও রিজার্ভের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতে। এ ছাড়া নীল অর্থনীতির গবেষণা ও প্রসারে চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০০ কোটি টাকা, যার মধ্যে বিশেষ গবেষণা তহবিলের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা। সমুদ্রভিত্তিক এই সামগ্রিক কর্মপরিকল্পনায় মৎস্য খাতের পাশাপাশি তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরের ২৬টি ব্লকে তুলনামূলক সহজ ও আকর্ষণীয় শর্তে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। উপকূলীয় ভোলা ও ফেনীতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র পাওয়ার পর সাগরেও জ্বালানির মজুত পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৬ সালের অফশোর বিডিং রাউন্ড ঘিরে গ্যাসের দাম নির্ধারণ নীতি সংশোধন, পাইপলাইন নির্মাণে সহায়তা এবং অনুসন্ধানে ব্যর্থ হলেও আর্থিক প্রণোদনার মতো সুযোগ রাখা হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, নীল অর্থনীতির আওতায় জ্বালানি খাতে অপার সম্ভাবনা রয়েছে এবং সমুদ্রবক্ষে গ্যাসের মজুত নিশ্চিত করা গেলে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সম্ভাবনাময় এসব ক্ষেত্র থাকা সত্ত্বেও গভীর সমুদ্রে বাণিজ্যিক মৎস্য আহরণ ও জ্বালানি উত্তোলনে প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত, আধুনিক বন্দর ব্যবস্থাপনা এবং পণ্য পরিবহনের মতো খাতগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রণীত নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে নীল অর্থনীতি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার 24 Live Newspaper-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।