আগামী মাসের শেষেই কলকাতা পুরসভার ভোটকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও এনসিপিআই-এর জোট জল্পনা তুঙ্গে। এতদিন দলের পুরভোট ইনচার্জ সুকান্ত মজুমদার এবং আহ্বায়ক তাপস রায় আসন সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করলেও, সাম্প্রতিক মন্তব্যে তাঁদের সুর কিছুটা নরম হয়েছে। ২০৯টি আসনেই লড়ার কথা বলা হলেও পারমুটেশন-কম্বিনেশনের ইঙ্গিত দিয়ে শেষ পর্যন্ত জোট নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন তাঁরা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বিজেপির কলকাতা পুরভোটের ইনচার্জ ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, আসন ভাগাভাগি নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত আলোচনা না হলেও রাজনীতিতে 'গেম অফ পারমুটেশন ও কম্বিনেশন' সবসময়ই প্রযোজ্য।
- কলকাতা পুরভোট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক তাপস রায় জানিয়েছেন, দল বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত নেবে, তিনি যোগদান করার পর থেকে তা অমান্য করে কোনো কাজ করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না।
- প্রতিপক্ষ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে তাঁর হাতে ৪০-৪৫ জন প্রার্থী রয়েছেন যাঁরা আসন্ন পুরভোটে দাঁড়াতে আত্মবিশ্বাসী, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আগামী মাসের শেষেই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কলকাতা পুরসভার নির্বাচন। তবে এই নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজেপি এবং এনসিপিআই-এর মধ্যকার সম্ভাব্য জোটের সমীকরণ। ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই এই দুই দলের পারস্পরিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে পৌঁছেছে, যার মধ্যে কিছু শীর্ষ নেতার বক্তব্যে সামান্য সুর বদলের ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে।
শুরু থেকেই বিজেপির কলকাতা পুরভোটের ইনচার্জ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে আসছিলেন যে, কলকাতার পুরভোটে কোনো আসন ভাগাভাগির প্রশ্নই ওঠে না এবং দল ২০৯টি আসনেই এককভাবে লড়াই করবে। তবে সম্প্রতি তাঁর বক্তব্যে কিছুটা নমনীয়তা লক্ষ্য করা গেছে। তিনি মন্তব্য করেছেন যে রাজনীতিতে কোনো নির্দিষ্ট বা অপরিবর্তনীয় নিয়ম থাকে না এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পারমুটেশন ও কম্বিনেশনের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে।
একই ধরনের সুর বদল লক্ষ্য করা গেছে বিজেপি সরকারের শিল্পমন্ত্রী তথা কলকাতা পুরভোট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক তাপস রায়ের বক্তব্যেও। এর আগে প্রতিদ্বন্দ্বী নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও কঠোর মন্তব্য করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি দলের শৃঙ্খলার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছেন। তাপস রায় স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, দল বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাকে যে নির্দেশ দেবে, তিনি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন এবং দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, বিরোধী শিবির থেকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে তাঁর নিয়ন্ত্রণে ৪০ থেকে ৪৫ জন সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন যারা আসন্ন পুরভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্তুত। এই বহুমুখী দাবি এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কৌশলী মন্তব্যের জেরে শেষ পর্যন্ত পুরভোটে কোনো আনুষ্ঠানিক জোট হচ্ছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ধোঁয়াশা পুরোপুরি কাটেনি। শহরবাসীর নজর এখন দলগুলোর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা এবং আসন সমঝোতার শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তের দিকেই।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।