মাদারীপুরের শিবচরে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নিলখী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির তাইজুল ইসলামকে দলীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত রবিবার (২৫ অক্টোবর) উপজেলার পশ্চিম চরকামারকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইউসুফ হাওলাদার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। অভিযুক্ত নেতা ওই নারীকে নিজের স্ত্রী দাবি করেছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার নিলখী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির তাইজুল ইসলামকে গত ২৭ অক্টোবর দলীয় সব কর্মকাণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
- গত ২৫ অক্টোবর উপজেলার পশ্চিম চরকামারকান্দি গ্রামে এক নারীর সঙ্গে একটি কক্ষে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
- উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইউসুফ হাওলাদারের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মাদারীপুরের শিবচরে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় আটকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত তাইজুল ইসলাম মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার নিলখী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমিরের দায়িত্বে ছিলেন। গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে শিবচর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইউসুফ হাওলাদারের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাকে দলীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে, যখন উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের পশ্চিম চরকামারকান্দি গ্রামে তাইজুল ইসলামের বাড়িতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রহমান মিয়াজীর ছেলে তাইজুল ইসলামের একটি কক্ষে এক নারীর সঙ্গে তাকে দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন জড়ো হন এবং তাকে আটক করেন। পরবর্তীতে সন্ধ্যার পর থেকেই ওই ঘটনার ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপ ও আইডিতে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, যা রাতের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং নানা ধরনের গুঞ্জন শুরু হয়।
এদিকে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে দলটির স্থানীয় নেতৃত্ব। শিবচর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির সরোয়ার হোসেন মৃধা গণমাধ্যমকে জানান, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাইজুল ইসলামকে দলের দাওয়াত ও প্রচারণার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে ভিডিও ফাঁসের ঘটনা এবং স্থানীয়দের অসন্তোষের বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে দলের সব কর্মকাণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আরও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত তাইজুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দিয়ে দাবি করেছেন যে, ভিডিওতে দৃশ্যমান নারী তার বৈধ স্ত্রী। তবে ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে থাকায় তার সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, পানিপড়া ও ঝাড়ফুঁক কিংবা চিকিৎসার নামে বিভিন্ন নারীদের বাড়িতে ডেকে এনে নানা অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত হতেন তিনি। স্থানীয় সচেতন মহল এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।