ভারতের কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে (এসআরএফটিআই) ছাত্রবিক্ষোভ ও উপাচার্যকে হেনস্থা ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা। অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বিজেপিকে ‘রক্তপিপাসু ও মিথ্যাবাদীর দল’ বলে আক্রমণ করেছেন। এর জবাবে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ তাঁকে ‘মাফিয়া’ বলে কটাক্ষ করায় রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- এসআরএফটিআই-এর ছাত্রবিক্ষোভ এবং উপাচার্যকে হেনস্থার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ।
- অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ ইনস্টিটিউটে এসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থন জানান এবং বিজেপিকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ করেন।
- নাসিরুদ্দিন শাহের মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ তাঁকে ‘মাফিয়া’ হিসেবে অভিহিত করেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কলকাতার স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে (এসআরএফটিআই) সাম্প্রতিক ছাত্রবিক্ষোভ ও উপাচার্যকে হেনস্থার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাঙ্গন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উত্তাপের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আলোচনায় কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমান অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর কর্তৃপক্ষের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ এবং ক্যাম্পাসে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সমাজের একটি বড় অংশ।
গত কয়েক দিন ধরে চলা এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করতে ক্যাম্পাসে আসেন প্রবীণ ও বিশিষ্ট অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। তিনি শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত দাবির পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে ‘রক্তপিপাসু ও মিথ্যাবাদীর দল’ বলে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন নির্বাচন বা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের জন্য নানা কারচুপি ও অপচেষ্টা চালাচ্ছে দলটি। তাঁর এই মন্তব্যের পরই রাজ্য রাজনীতিতে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
নাসিরুদ্দিন শাহের এই তীব্র সমালোচনার দ্রুত জবাব দিয়েছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। দলের প্রবীণ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য দিলীপ ঘোষ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নাসিরুদ্দিন শাহকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে ‘মাফিয়া’ বলে কটাক্ষ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, একশ্রেণির বুদ্ধিজীবী ও অভিনেতা রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে ক্যাম্পাসে উসকানি দিচ্ছেন এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছেন। এই পালটাপালটি মন্তব্যে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে।
এদিকে এসআরএফটিআই-এর পাশাপাশি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, আলিয়াসহ রাজ্যের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। এই ঘটনা সাংস্কৃতিক অঙ্গন এবং মূলধারার রাজনীতির মধ্যকার সংঘাতকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।