সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (SRFTI) পড়ুয়াদের শোকজ নোটিস ও হস্টেল ছাড়ার হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন প্রবীণ বলিউড অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি, বিজেপিকে 'ঝুঠি পার্টি' বলে আক্রমণ করে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বিশিষ্ট অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করে SRFTI-এর পড়ুয়াদের শোকজ নোটিস পাঠানোর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
- ভিডিওবার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিজেপি সরকারের বিরোধিতাকারীদের ওপর প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হচ্ছে এবং পড়ুয়াদের হস্টেল ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে।
- কেন্দ্রীয় শাসকদলকে 'ঝুঠি পার্টি' হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের দমনপীড়নমূলক নীতি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (SRFTI) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শোকজ নোটিস দেওয়াকে কেন্দ্র করে দেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। পরিস্থিতি যখন উত্তপ্ত, ঠিক তখনই শিক্ষার্থীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন প্রবীণ ও স্বনামধন্য বলিউড অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং সরাসরি ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে আক্রমণ করেন।
ভিডিওবার্তায় নাসিরুদ্দিন শাহ দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই এক ধরণের প্রতিহিংসার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। তাঁর মতে, যারা বিজেপি সরকারের নীতির বিরোধিতা করছেন, তাদের বেছে বেছে লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে SRFTI-এর পড়ুয়ারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শোকজ নোটিস পাঠানো এবং হস্টেল খালি করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি, যা তরুণ প্রজন্মের গণতান্ত্রিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতাকে খর্ব করার সামিল।
অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে স্পষ্ট মতামতের জন্য পরিচিত নাসিরুদ্দিন শাহ এই ভিডিওতে বিজেপিকে 'ঝুঠি পার্টি' বলে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। এর আগেও দেশের নানা রাজনৈতিক এবং সামাজিক ইস্যুতে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর এই সরব হওয়া এবং পড়ুয়াদের পক্ষে দাঁড়ানো বিষয়টি চলচ্চিত্র ও রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। একদল বুদ্ধিজীবী তাঁর এই সাহসিকতাকে সাধুবাদ জানালেও, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের অভিযোগ নতুন নয়। তবে দেশের একজন প্রথম সারির অভিনেতার এই সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং সরব হওয়া এই বিতর্ককে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, SRFTI-এর মতো একটি স্বনামধন্য কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং তার জেরে তৈরি হওয়া অসন্তোষ আগামী দিনে দেশের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাঙ্গনের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।