৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"নাটোরে বড়াইগ্রামে বরগুনা থেকে রাজশাহীগামী আরপি স্পেশাল বাস ও বালুবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশুসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। নাটোর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক জানান, চালকের তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব ও ডান পাশে চলে যাওয়ার কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। জেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন ও ১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- নাটোরের বড়াইগ্রামে বরগুনা থেকে রাজশাহীগামী 'আরপি স্পেশাল' বাস এবং বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
- পুলিশ ও প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার শিকার বাসটির চালক মো. সোহেল রানা ও ট্রাকচালক আবুল কালামসহ নিহত ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮ বছরের শিশু তাছফিয়াও রয়েছে।
- জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং প্রতিটি নিহত পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় বাস ও বালুবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১২ জন নিহত এবং প্রায় ৩০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বরগুনা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী 'আরপি স্পেশাল' বাসটি নাটোরের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রাথমিক তদন্ত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ভোররাতে গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় বাসের চালকের তন্দ্রা বা ঘুমভাব চলে আসায় বাসটি হঠাৎ তার নিজস্ব লেন ছেড়ে ডানপাশে চলে যায়। এ সময় বাম লেনে থাকা বালুবাহী ট্রাকটির সঙ্গে সজোরে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও ট্রাক দুটিরই চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। এছাড়া বাসের সামনের সারির যাত্রীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন এবং ট্রাকের দরজা কেটে চালকের মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর নাটোর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে হতাহতদের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়। নিহত ১২ জনের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহীর বাগমারার আনোয়ার হক, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের শিশু তাছফিয়া, শরীয়তপুরের আব্দুস সামাদ ফকির, জুয়েল, সালাম মোল্লা, কাশেম, শাহীন, শহিদুল ইসলাম, ঝিনাইদহের ট্রাকচালক আবুল কালাম, নওগাঁর রাসেল আলী, ফরিদপুরের হিমেজ জামাদার এবং বাসের চালক রাজশাহীর গোদাগাড়ীর মোড় সোহেল রানা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে বারবার এমন বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ২০১৪ সালের একই দিনে এই বড়াইগ্রামেই সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৩ জনেরও বেশি নিহতের ইতিহাস রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং নিহতদের পরিবারপ্রতি এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত যানজট ও সংকীর্ণ এই মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে স্থায়ী ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার বিবিসি বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।