নেপালে বন্যার ৯ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ২ জনকে জীবিত উদ্ধার
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"নেপালে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ৯ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে দুই ব্যক্তিকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল। গত সপ্তাহের রেকর্ড বৃষ্টিপাত ও প্লাবনে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা ২২৫ ছাড়িয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দল ও সামরিক বাহিনীর সমন্বয়ে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে এখনও নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ধসে নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২৫ জনে পৌঁছেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত আরও ৩০ জন।
- ধ্বংসস্তূপে ৯ দিন আটকে থাকার পর উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুর সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
- বন্যা আঘাত হানার সময় দেশটির পূর্ব সতর্কীকরণ ব্যবস্থার (Early Warning System) সংকেত পৌঁছাতে ৩৮ মিনিট বিলম্ব হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বহুগুণ বাড়ে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
নেপালে টানা প্রবল বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট প্রলয়ঙ্করী বন্যা ও ভূমিধসের ৯ দিন পর মাটির নিচে চাপা পড়া একটি ভবনের ধ্বংসাবশেষ থেকে দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ বল এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত তল্লাশি অভিযানে অবিশ্বাস্যভাবে তাদের জীবিত খুঁজে পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময় খাবার ও পানীয় ছাড়া ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকায় তারা মারাত্মক পানিশূন্যতা ও শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছিলেন। উদ্ধারের পরপরই তাদের হেলিকপ্টারযোগে কাঠমান্ডুর সামরিক হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
গত মাসের শেষভাগে নেপালের কাঠমান্ডু উপত্যকাসহ মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে হওয়া রেকর্ড বৃষ্টিপাতে বাগমতিসহ প্রধান নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে হাজার হাজার বাড়িঘর, মহাসড়ক ও সেতু ধসে পড়ে পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিশেষ করে কাভরেপালানচোক, ললিতপুর ও সিন্ধুপালচোক জেলায় ব্যাপক ভূমিধসে বহু বাড়িঘর মাটির নিচে দেবে যায়, যাতে শত শত মানুষ চাপা পড়েন।
এদিকে ভয়াবহ এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপুল প্রাণহানির পেছনে কাঠমান্ডুর কেন্দ্রীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থার ত্রুটিকে দায়ী করা হচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, চরম বিপদকালীন সময়ে জনসাধারণের কাছে দুর্যোগের সতর্কবার্তা পৌঁছাতে প্রায় ৩৮ মিনিট দেরি হয়েছিল, যার ফলে নিম্নাঞ্চলের মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাননি। বর্তমানে বিভিন্ন বেসরকারি দাতব্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠী দুর্গত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে কাজ করছে।
হিমালয় কন্যা নেপালে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘন ঘন এমন চরম আবহাওয়ার পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে সতর্ক করেছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। ৯ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে দুইজনের জীবিত ফিরে আসার ঘটনা উদ্ধারকর্মীদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এখনও যেসব প্রত্যন্ত অঞ্চলে উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি, সেখানে ড্রোন ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার সময়ের কণ্ঠস্বর-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।