ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পার্লামেন্ট নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োগের নতুন রাজনৈতিক প্রস্তুতি শুরু করেছেন দেশটির বিরোধী দলীয় নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট। তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে চলমান তীব্র গণবিক্ষোভ এবং আরব দলগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য রাজনৈতিক জোট গঠনের আলোচনার মধ্যেই এই কৌশলগত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ইসরায়েলের বিরোধী নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট পার্লামেন্ট নেসেটে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বর্তমান সরকারকে হটাতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের আনুষ্ঠানিক কৌশলগত প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
- তেল আবিবসহ দেশটির প্রধান শহরগুলোতে হাজার হাজার সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অবিলম্বে নির্বাচন দেওয়া এবং আরব দলগুলোর সঙ্গে নতুন জোট গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
- বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতার মেয়াদ দীর্ঘায়িত করতে আসন্ন রাজনৈতিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত ও অবৈধ প্রমাণের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ইসরায়েলের রাজনীতিতে চরম অস্থিরতার মধ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পার্লামেন্ট নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োগের জোরালো প্রস্তুতি শুরু করেছেন বিরোধী নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট। গাজা সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ নানা রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর ওপর চাপ বাড়াতে এই কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেসেটের বর্তমান সমীকরণে বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ হলে নেতানিয়াহুর দীর্ঘমেডারি শাসনব্যবস্থা বড় ধরনের আইনি ও সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বড় বড় শহরগুলোতে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি হলো, অবিলম্বে বর্তমান মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন আয়োজন করা এবং আরব দলগুলোর সঙ্গে একটি কার্যকরী রাজনৈতিক জোট গঠন করা। বিরোধীদের অভিযোগ, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ ও অবৈধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা ইসরায়েলের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
এদিকে, বিরোধী জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতারা বলছেন, নেতানিয়াহু যেকোনো কৌশল বা কূটকৌশলই অবলম্বন করুন না কেন, নেসেটে পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তারা নতুন সরকার গঠনে সক্ষম হবেন। আরব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চলমান গোপন ও প্রকাশ্য আলোচনা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে নেতানিয়াহু ও তার অনুসারী কট্টর ডানপন্থী জোট এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছেন যে, দেশের যুদ্ধাবস্থায় এ ধরনের রাজনৈতিক অভ্যুত্থান বা ক্ষমতা দখলের চেষ্টা জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
ইসরায়েলের এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট কেবল দেশটির সরকার ব্যবস্থাকেই অস্থিতিশীল করছে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বে নেসেটে যদি এই অনাস্থা বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রস্তাব পাস হয়, তবে তা ইসরায়েলি রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পালাবদলের সূচনা করবে। একই সঙ্গে এটি দেশটির আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ এবং চলমান আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির আলোচনাকেও সরাসরি প্রভাবিত করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।