৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"র্যাগিংয়ের অভিযোগে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭তম রিজেন্ট বোর্ডে ৭ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার ও দুজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত ২১ জুলাই ফার্মেসি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগ দেওয়ার সময় মুশফিকুর রহমান তুহিন নামের এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই কঠোর শাস্তি প্রদান করে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭তম রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী র্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িত মোট ৭ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
- ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. নাজমুস সাকিবকে দুই বছরের জন্য এবং জাহিদ হোসেন সরকার, মিসকাত জাহান মুসফিকসহ ৬ জনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
- গত ২১ জুলাই বাংলা ক্লিনিক এলাকার একটি মেসে নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের ঘটনায় মুশফিকুর রহমান তুহিন নামের এক শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
র্যাগিংয়ের দায়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ৭ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিদ্যালয়ের ৭৭তম রিজেন্ট বোর্ডের সভায় এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশ ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২১ জুলাই, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগ দেওয়া হচ্ছিল। বাংলা ক্লিনিক এলাকার একটি মেসে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। এই র্যাগিংয়ের শিকার হয়ে মুশফিকুর রহমান তুহিন নামের এক নবীন শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তাকে পাবনা সদর হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে জরুরি ভিত্তিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পরপরই বিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির দীর্ঘ তদন্ত ও সুপারিশের ভিত্তিতে ৭৭তম রিজেন্ট বোর্ডের ৭৭.২০ নম্বর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. নাজমুস সাকিবকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া একই বিভাগের জাহিদ হোসেন সরকার, মিসকাত জাহান মুসফিক, ইউনুস হোসেন হিরাত, সাইদুর রহমান সিফাত, সানোয়ার হোসেন তানিম এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ইসতিয়াক আহমেদ ইফতিকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই শিক্ষার্থীকে যথাক্রমে ১০ হাজার ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং সাত কর্মদিবসের মধ্যে অভিভাবকদের নিয়ে মুচলেকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে র্যাগিংয়ের মতো সামাজিক অপরাধ রোধে প্রশাসনের এমন কঠোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে দেশের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে র্যাগিং সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ হবে এবং শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকবে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।