আসানসোলের জামুড়িয়ার ইকরা শ্মশানে সাধক বামাক্ষ্যাপাকে ঘিরে রয়েছে অলৌকিক ইতিহাসের এক রোমাঞ্চকর ঘটনা। ১৯০৬ সালের ২০ অক্টোবর অণ্ডাল থেকে দেওঘর যাওয়ার পথে টিকিট না থাকার অভিযোগে ইংরেজ টিকিট পরীক্ষক তাঁকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেন। এরপরই ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। পরবর্তীতে রেলকর্তারা ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলে ট্রেন সচল হয় এবং সেখানে মহিষাবুড়ি কালী প্রতিমা প্রতিষ্ঠিত হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ১৯০৬ সালের ২০ অক্টোবর বামদেবের প্রধান শিষ্য ঋষিকেশ চট্টোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে সাধক বামাক্ষ্যাপা দ্বিতীয়বারের মতো জামুড়িয়ার ইকরা গ্রামে আসেন।
- অণ্ডাল থেকে দেওঘর যাওয়ার পথে টিকিট না থাকার অজুহাতে এক ইংরেজ টিকিট পরীক্ষক বামদেবকে ট্রেন থেকে জোর করে নামিয়ে দিলে ট্রেনের ইঞ্জিন হঠাৎ বিকল হয়ে যায়।
- সিঙ্গারণ নদীর তীরে মহীষাবুড়ির জোড় গাছের তলায় সাধনা শেষে বামদেবের মহিমায় প্রীত হয়ে রেল আধিকারিকরা ক্ষমা প্রার্থনা করলে পুনরায় ট্রেনের চাকা সচল হয় এবং সেখানে মহিষাবুড়ি শ্মশান কালী মায়ের পুজো শুরু হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বিখ্যাত সাধক নিমকরৌলি বাবার অলৌকিক ঘটনার কথা অনেকেরই জানা, তবে বাংলার আসানসোলের জামুড়িয়া এলাকার ইকরা শ্মশানের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সাধক বামাক্ষ্যাপার এমনই এক রোমাঞ্চকর ও অলৌকিক ইতিহাস। কথাসাহিত্য ও স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, ব্রিটিশ আমলে অণ্ডাল থেকে দেওঘর যাওয়ার পথে তৎকালীন এক ইংরেজ টিকিট পরীক্ষক সাধক বামদেবকে টিকিট না থাকার অপরাধে ট্রেন থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে দিয়েছিলেন। সাধককে অসম্মান করার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটে যায় এক অভাবনীয় ঘটনা। ট্রেন থেকে তিনি নেমে যাওয়ার পরেই রহস্যজনকভাবে ট্রেনের ইঞ্জিন সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায় এবং হাজার চেষ্টা সত্ত্বেও রেলকর্মীরা ট্রেনটিকে এক ইঞ্চিও সামনে এগোতে পারেননি।
এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে রেলকর্মীরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে সাধকের সন্ধানে চারপাশ তল্লাশি শুরু করেন। অবশেষে তারা দেখতে পান যে বামদেব ইকরা শ্মশানের নিরিবিলিতে গভীর ধ্যানে মগ্ন রয়েছেন। ঘটনার আকস্মিকতায় ও সাধকের মহিমায় নতি স্বীকার করে রেলের উর্ধ্বতন আধিকারিকরা তাঁর চরণে উপস্থিত হয়ে ক্ষমা ভিক্ষা করেন। কথিত আছে, সাধক ক্ষমা প্রদর্শনের পরেই অলৌকিক উপায়ে সচল হয় ট্রেনের ইঞ্জিন এবং ট্রেন তার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। এই ঘটনার পর থেকেই সিঙ্গারণ নদীর তীরে মহীষাবুড়ির এক জোড় গাছের তলায় সাধনা শুরু করেন বামদেব, যা পরবর্তীতে ইকরা শ্মশান কালী মন্দির হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
স্থানীয় ইতিহাস ও বিভিন্ন পুস্তিকা সূত্রে জানা যায়, ১৯০৬ সালের ২০ অক্টোবর সাধক বামাক্ষ্যাপা তাঁর প্রধান শিষ্য ঋষিকেশ চট্টোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে দ্বিতীয়বারের জন্য এই অঞ্চলে পদার্পণ করেছিলেন। সে সময় ওই এলাকাটি গভীর জঙ্গলে পরিপূর্ণ থাকলেও কালক্রমে কলকারখানা ও জনবসতি গড়ে ওঠে। এককালের নিবিড় জঙ্গল ঘেরা সাধনাপীঠ আজ একটি সুবৃহৎ মন্দিরে রূপান্তরিত হয়েছে। যেখানে সাধক বামদেবের স্মৃতি বিজড়িত সেই মহিষাবুড়ি শ্মশান কালী দেবী অত্যন্ত জাগ্রত দেবী হিসেবে এলাকার মানুষের কাছে পরম ভক্তির পাত্র হয়ে উঠেছেন।
বর্তমান সময়ে কালীপুজোর এই পবিত্র মরশুমে প্রতিবছর হাজার হাজার ভক্ত ও পুণ্যার্থী ইকরার এই ঐতিহাসিক শ্মশান কালী মন্দিরে ভিড় জমান। বামাক্ষ্যাপার পদধূলিধন্য এই মন্দিরের প্রাচীন ঐতিহ্য এবং অলৌকিক পটভূমি কেবল স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছেই নয়, বরং সমগ্র বর্ধমান তথা রাজ্যজুড়ে এক আধ্যাত্মিক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যা আজও বাংলার শাক্ত সাধনার এক অনন্য নিদর্শন বহন করে চলেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।