ইসরায়েলে আগামী জাতীয় নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে রাজধানী তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে লক্ষাধিক মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে নেতানিয়াহু যেকোনো আপস করতে প্রস্তুত। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির আসন কমার এবং বিরোধী জোটের এগিয়ে থাকার আভাস পাওয়া গেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আসন্ন সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের আসনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাসের আভাস দিয়েছে সাম্প্রতিক একাধিক জনমত জরিপ।
- তেল আবিবসহ প্রধান শহরগুলোতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়েছেন লক্ষাধিক সরকারবিরোধী আন্দোলনকারী, যাদের প্রধান মুখ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী নেতা গাদি আইজনকোট।
- বিরোধীদের কড়া অভিযোগ, কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতা কুক্ষিগত ও দীর্ঘায়িত করতেই নেতানিয়াহু দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তার স্বার্থ বিসর্জন দিচ্ছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ইসরায়েলে বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাত্র তিন দিন বাকি থাকতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন দেশের সাধারণ মানুষ ও বিরোধীরা। তেল আবিবসহ প্রধান শহরগুলোতে আয়োজিত এই বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে নেতানিয়াহুর একরোখা নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন ক্ষুব্ধ নাগরিকরা।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, নেতানিয়াহুর দীর্ঘমেয়াদী শাসনকালের বিরুদ্ধে এবার শক্ত অবস্থান নিয়েছেন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজনকোট। জনমত জরিপগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি এবং তার উগ্র ডানপন্থী জোটের আসন সংখ্যা কমতে পারে। বিপরীতে আইজনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির যথেষ্ট শক্ত অবস্থানে রয়েছে, যা ইসরায়েলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে বড় ধরণের পালাবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সরকারবিরোধী এই আন্দোলন প্রসঙ্গে বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন যে, দেশের বৃহত্তর স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক টিকে থাকাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন নেতানিয়াহু। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ নানা সংকটের মাঝে এই তীব্র জনরোষ নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ স্থায়িত্ব। যদি জরিপের ফল সত্য হয়, তবে দেশটির দীর্ঘ রাজনৈতিক চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।