৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"আলোর সাহায্যে স্নায়ুকোষ নিয়ন্ত্রণের যুগান্তকারী পদ্ধতি 'অপ্টোজেনেটিক্স' আবিষ্কারের জন্য ২০২৬ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন কার্ল ডেইসারথ, পিটার হেগম্যান ও জর্জ নাগেল। সোমবার ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি এই ঘোষণা দেয়। ১১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার এই পুরস্কার তিন বিজ্ঞানী সমানভাবে ভাগ করে নেবেন। এই আবিষ্কার মস্তিষ্কের স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ বিশ্লেষণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ২০২৬ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী তিন বিজ্ঞানী হলেন কার্ল ডেইসারথ, পিটার হেগম্যান এবং জর্জ নাগেল, যারা অপ্টোজেনেটিক্স পদ্ধতির ভিত্তি স্থাপন করেছেন।
- এবারের নোবেল পুরস্কারের মোট অর্থমূল্য ১১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, যা তিনজন বিজয়ীর মধ্যে সমানভাগে বণ্টন করা হবে।
- গবেষকরা এককোষী শৈবাল Chlamydomonas-এ channelrhodopsin প্রোটিন আবিষ্কার করেন, যা নীল আলোর মাধ্যমে ইঁদুরের মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
অপ্টোজেনেটিক্স বা আলোর সাহায্যে স্নায়ুকোষ নিয়ন্ত্রণের অভিনব পদ্ধতি আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কার জিতলেন কার্ল ডেইসারথ, পিটার হেগম্যান এবং জর্জ নাগেল। সোমবার স্টকহোমের সোলনায় অবস্থিত ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল ফোরামে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের নাম ঘোষণা করা হয়। ১৯০১ সাল থেকে মানবজাতির কল্যাণে বিশেষ অবদানের জন্য প্রবর্তিত নোবেল পুরস্কারগুলোর মধ্যে এটিই চলতি বছরের প্রথম ঘোষণা।
এই যুগান্তকারী পদ্ধতির যাত্রা শুরু হয়েছিল পিটার হেগম্যান এবং জর্জ নাগেলের এককোষী শৈবাল 'Chlamydomonas' নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে। তাঁরা শৈবালের উপরিভাগে 'channelrhodopsin' নামের একটি বিশেষ প্রোটিন আবিষ্কার করেন, যা নীল আলোর সংস্পর্শে এলে চ্যানেল খুলে বৈদ্যুতিক সঙ্কেত তৈরি করে। পরবর্তীতে বিজ্ঞানী কার্ল ডেইসেরথ ইঁদুরের স্নায়ুকোষে এই জিন প্রবেশ করিয়ে ২০০৫ ও ২০০৭ সালে প্রমাণ করেন যে জীবন্ত প্রাণীর মস্তিষ্কেও আলোর সাহায্যে স্নায়ু সংকেত সক্রিয় করা সম্ভব।
ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের ৫০ জন অধ্যাপক নিয়ে গঠিত নোবেল অ্যাসেম্বলি এই বিজয়ীদের নির্বাচন করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই আবিষ্কারের ফলে স্নায়ুবিজ্ঞানীরা বর্তমানে মস্তিষ্কের সুনির্দিষ্ট সার্কিট কীভাবে স্মৃতি, অনুভূতি এবং আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে তা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করতে পারছেন। একই সঙ্গে পারকিনসন রোগ, অন্ধত্ব কিংবা মস্তিষ্কের অন্যান্য জটিল ব্যাধি নিরাময়ে এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ নিয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষণা চলছে।
এই আবিষ্কার আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান গবেষণায় এক বিশাল বিপ্লব ঘটিয়েছে, যা ভবিষ্যৎ চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন থেরাপি ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পথ প্রশস্ত করেছে। আগামী দিনগুলোতে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি এবং অর্থনীতিতে বাকি নোবেল পুরস্কারগুলো ঘোষণা করা হবে এবং ১২ অক্টোবর শেষ পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে এই মৌসুমের সমাপ্তি ঘটবে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার bangla.aajtak.in-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।