৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে নোবেল শান্তি পুরস্কার তার পাওয়া উচিত। ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসোর্টে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে আব্রাহাম অ্যাকর্ড চুক্তি স্বাক্ষরসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে তার ঐতিহাসিক অবদানের কথা বিবেচনা করে এই পুরস্কার তাকে দেওয়া উচিত। তবে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের কারণে তাকে এই সম্মাননা থেকে বঞ্চিত করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে তার আমলে মধ্যপ্রাচ্যে ঐতিহাসিক 'আব্রাহাম অ্যাকর্ড' চুক্তি সম্পাদন এবং একাধিক যুদ্ধ এড়াতে সক্ষম হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণে নোবেল শান্তি পুরস্কার একমাত্র তারই প্রাপ্য।
- ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি পক্ষপাতদুষ্ট এবং তারা সচেতনভাবে তার মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের এই পুরস্কার প্রদান থেকে বিরত রাখে।
- এর আগেও একাধিকবার নিজের নোবেল প্রাপ্তির দাবি উত্থাপন করেছেন রিপাবলিকান এই নেতা, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার জোরালো দাবি তুলেছেন। ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসোর্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, তার চার বছরের প্রেসিডেন্সিয়াল মেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় যে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখা হয়েছে, তার ভিত্তিতে এই সম্মানজনক পুরস্কার তার হাতেই ওঠা উচিত ছিল। তবে নরওয়ের নোবেল কমিটি তাকে রাজনৈতিক কারণে এই পুরস্কার দেবে কি না, তা নিয়ে তিনি তীব্র সংশয় প্রকাশ করেন।
ট্রাম্পের এই দাবির পেছনে মূলত তার প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত 'আব্রাহাম অ্যাকর্ড' বা আব্রাহাম চুক্তিকে প্রধান ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়। ২০২০ সালে ইসরায়েল এবং বেশ কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির ফলে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়, যাকে বিশ্ব রাজনীতিতে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হয়েছিল। এছাড়া তার মেয়াদকালে নতুন কোনো বড় যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়ায়নি—এই যুক্তিও ট্রাম্প ও তার সমর্থকরা বারবার তুলে ধরে আসছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের নাম অতীতেও একাধিকবার আলোচনায় এসেছে। তবে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সবসময়ই ভিন্ন বার্তা দেয়। ট্রাম্পের কড়া সমালোচকরা মনে করেন, তার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতির বিতর্কিত দিকগুলো নোবেল কমিটির মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে তার আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক বাচনভঙ্গি এবং বহুপাক্ষিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নেওয়ার সিদ্ধান্তগুলো শান্তি প্রতিষ্ঠাতার ভাবমূর্তির পরিপন্থী ছিল বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।
এদিকে, ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক মন্তব্য মার্কিন রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার ডামাডোলে তার এই ধরনের মন্তব্য তার সমর্থকদের মধ্যে একধরনের জাতীয়তাবাদী উন্মাদনা তৈরি করলেও, বিরোধীরা একে তার আত্মপ্রচারের কৌশল হিসেবেই দেখছেন। নোবেল শান্তি পুরস্কারের ঘোষণা এবং সম্ভাব্য বিজয়ীদের তালিকা নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে জল্পনা চলছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই মন্তব্য বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার প্রথম আলো-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।