৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের বিচারক নাভি পিল্লাই ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রসারে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ৮৫ বছর বয়সী দক্ষিণ আফ্রিকান এই বিচারককে এই সম্মাননা প্রদান করে। এর মাধ্যমে তিনি নেলসন ম্যান্ডেলা ও আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটুর পর দেশটির পঞ্চম নোবেল শান্তি বিজয়ী হলেন।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ৮৫ বছর বয়সী দক্ষিণ আফ্রিকান বিচারক ও জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করেছেন, যিনি দেশটির পঞ্চম বিজয়ী হিসেবে নেলসন ম্যান্ডেলা ও ডেসমন্ড টুটুর পদাঙ্ক অনুসরণ করলেন।
- নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োর্গেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস ঘোষণা করেন যে, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পিল্লাইয়ের যুগান্তকারী কাজ অপরিহার্য ভূমিকা পালন করেছে।
- পিল্লাই তার দীর্ঘ কর্মজীবনে ১৯৬৭ সালে নাটাল প্রদেশে প্রথম অ-শ্বেতাঙ্গ নারী আইনজীবী হিসেবে ইতিহাস গড়ার পাশাপাশি রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং গাজার ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতিত্ব করেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) বিশিষ্ট বিচারপতি নাভি পিল্লাই ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রসারে তার দীর্ঘ প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ৮৫ বছর বয়সী এই দক্ষিণ আফ্রিকান বিচারককে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননার জন্য মনোনীত করে। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োর্গেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস জানান যে, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পিল্লাইয়ের কাজ বিশ্বজুড়ে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করেছে। শুক্রবার ঘোষিত এই ফলাফলের মাধ্যমে তিনি নেলসন ম্যান্ডেলা ও আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটুর পর দক্ষিণ আফ্রিকার পঞ্চম শান্তি পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে ইতিহাস গড়লেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যমূলক শাসনের সময় ডারবানের একটি দরিদ্র ভারতীয় অধ্যুষিত এলাকায় একজন বাসচালকের কন্যা হিসেবে বেড়ে ওঠা নাভি পিল্লাই ১৯৬৭ সালে নাটাল প্রদেশে প্রথম মহিলা হিসেবে আইন পেশা প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তীতে দেশটির উচ্চ আদালতে নিযুক্ত প্রথম অ-শ্বেতাঙ্গ মহিলা হন। কর্মজীবনে তিনি জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা ১৯৯৪ সালের গণহত্যার ওপর কেন্দ্র করে গঠিত হয়েছিল। এছাড়া, ২০২১ থেকে ২৫ সাল পর্যন্ত তিনি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতিত্ব করেন এবং বর্তমানে গাম্বিয়ার দায়ের করা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আইসিজে-র বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পিল্লাইয়ের এই পুরস্কার প্রাপ্তির পর বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক এবং দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি সিরিল রামাফোসা তার এই অর্জনকে মানবাধিকার ও আইনের শাসনের জন্য এক বিরাট স্বীকৃতি বলে অভিহিত করেছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড মন্তব্য করেন যে, আন্তর্জাতিক আইন যখন বিভিন্ন মহলের আক্রমণের শিকার, তখন এই পুরস্কার পাওয়ার জন্য পিল্লাই একজন অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক পছন্দ। তবে এর বিপরীত চিত্রও দেখা গেছে; ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পুরস্কারের তীব্র সমালোচনা করে একে ইসরায়েল-বিরোধী ঘৃণা ও বিদ্বেষকে বৈধতা দেওয়ার একটি জঘন্য অস্ত্রায়ন বলে অভিহিত করেছে।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যখন ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ যুদ্ধ ও সংঘাত চলছে, তখন নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল শান্তি পুরস্কার আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা ও গুরুত্ব নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির মতে, অস্তিত্বের সংকটের এই সময়ে শান্তি ও নিরাপত্তার পরিপূরক হিসেবে আন্তর্জাতিক আইন কেবল একটি অপশন নয়, বরং একটি অপরিহার্য প্রয়োজন। পিল্লাইয়ের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মী ও বিচারপ্রার্থী নিপীড়িত মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করবে বলে বিশ্নেষকরা মনে করছেন।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার বিবিসি বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।