কলকাতার নীলরতন সরকার (এনআরএস) মেডিক্যাল কলেজে ইন্টার্নশিপের ডিউটি টাকার বিনিময়ে বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ২৬৬ সদস্যের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রতি ঘণ্টা ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে ডিউটি কেনাবেচার চ্যাট ভাইরাল হওয়ার পরই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট ও রাজনৈতিক মহলের সমালোচনার মুখে পড়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- এনআরএস মেডিক্যাল কলেজের ২৬৬ জন ইন্টার্নকে নিয়ে তৈরি একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে টাকার বিনিময়ে ডিউটি বিক্রির রেটচার্ট ও চ্যাট ভাইরাল হয়েছে।
- ভাইরাল হওয়া চ্যাট অনুযায়ী, নাইট ডিউটি বা প্যাথোলজির ডিউটি পালটানোর জন্য প্রতি ঘণ্টায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত লেনদেন ও দরাদরি চলত।
- ঘটনার পর জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের সদস্য দেবাশিস হালদার ও বিজেপি নেতা শারদ্বত মুখোপাধ্যায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে বিভাগীয় তদন্তের দাবি তুলেছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র কলকাতার নীলরতন সরকার (এনআরএস) মেডিক্যাল কলেজে ইন্টার্নশিপ চলাকালীন ডিউটি বিক্রির একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। কলেজের একদল ইন্টার্নের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তাঁরা হাসপাতালে নিজেদের নির্ধারিত ডিউটি অন্যকে দিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছিলেন। এই সংক্রান্ত একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের চ্যাট ও স্ক্রিনশট সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে চিকিৎসামহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া চ্যাট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২৬৬ জন সদস্যের ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে রীতিমতো রেটচার্ট ও দরাদরি চলছে। উদাহরণস্বরূপ, রাত ১০টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত নাইট ডিউটি না করার জন্য এক ইন্টার্ন প্রস্তাব দিলে অন্য একজন প্রতি ঘণ্টা আড়াইশো টাকালে সেই ডিউটি করার সম্মতি জানান। এছাড়া প্যাথোলজি বিভাগের তিন দিনের ডিউটির জন্যও প্রতি ঘণ্টায় দুশো টাকা হারে লেনদেনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রতিদিন হাজার হাজার সাধারণ রোগী চিকিৎসাসেবার জন্য এই হাসপাতালে ভিড় জমান, সেখানে ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের এই ধরনের অনৈতিক দায়িত্বহীনতা রোগীর সুরক্ষাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের চিকিৎসক ও প্রতিনিধি দেবাশিস হালদার প্রশ্ন তুলেছেন যে, এতদিন ধরে এই অনিয়ম কীভাবে চলে আসছে এবং এর নেপথ্যে বিভাগীয় প্রধান, সুপার বা অধ্যক্ষদের কোনো যোগসাজশ আছে কি না। অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহ থেকেও তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে; মন্ত্রী ও বিজেপি বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় একে দপ্তরের তদন্তের ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করে গ্রুপটির অ্যাডমিন ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
চিকিৎসা শিক্ষার মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে ইন্টার্নদের একাংশের এমন বাণিজ্যিক মানসিকতা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল ভিত্তিকে প্রশ্নবিচারের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এই কেলেঙ্কারির ফলে সরকারি হাসপাতালের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধ করতে কলেজ ও রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর যৌথভাবে কঠোর বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।