জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে অ্যাপল রেকর্ড রাজস্ব আয় করেছে, যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছাড়িয়েছে। আইফোন বিক্রি ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি এই সাফল্যের মূল কারণ। তবে এআই অবকাঠামো ও মেমোরি চিপের ব্যয় বাড়ায় আগামী প্রান্তিকে মুনাফার হার ৪৭.৯ শতাংশ থেকে কমে ৪৫-৪৬ শতাংশে নামতে পারে। নতুন ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন ও এআই-চালিত ডিভাইসের মাধ্যমে ছুটির মৌসুমে বড় বিক্রির প্রত্যাশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে অ্যাপলের মোট মুনাফার হার ছিল ৪৭.৯ শতাংশ, যা আগামী প্রান্তিকে মেমোরি চিপের উচ্চমূল্য ও এআই সম্প্রসারণের ব্যয়ের কারণে ৪৫ থেকে ৪৬ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
- প্রতিদ্বন্দ্বী প্রযুক্তি জায়ান্টদের তুলনায় অ্যাপলের মূলধনি ব্যয় মাত্র ১১ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে কোম্পানিটি নিজস্ব অবকাঠামোর চেয়ে গুগলের জেমিনি মডেলের ওপর ভিত্তি করে সিরি এআই পুনর্নির্মাণের কৌশল নিয়েছে।
- অ্যাপল সম্প্রতি আইফোন ১৮ প্রো, ১৮ প্রো ম্যাক্স, ভাঁজযোগ্য ডুয়ো স্মার্টফোন, হোমভিউ স্মার্ট ডিসপ্লে এবং টাচস্ক্রিন ম্যাকবুক প্রো উন্মোচন করেছে, যা আসন্ন ছুটির মৌসুমে রাজস্ব বৃদ্ধিতে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আয় করেছে, যা বাজারের বিশ্লেষকদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। আইফোন বিক্রির ধারাবাহিকতা এবং সেবা খাতের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি এই অর্জনে বড় ভূমিকা রেখেছে। সিইও জন টার্নাসের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ইতিহাসের অন্যতম উচ্চাভিলাষী পণ্যসম্ভার নিয়ে বছর শেষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, মেমোরি চিপের ক্রমবর্ধমান দাম এবং সিরি এআই (Siri AI) প্রযুক্তি সম্প্রসারণের পেছনে বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে মুনাফার হার ৪৭.৯ শতাংশ থাকলেও, আগামী প্রান্তিকে তা ৪৫ থেকে ৪৬ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। তবে অ্যাপল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর নতুন ফিচারগুলো গ্রাহকদের ডিভাইস আপগ্রেড করতে উৎসাহিত করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হবে।
অ্যাপলের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা কেভান পারেখ জানিয়েছেন, এআই খাতে বিনিয়োগ নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই, বরং এটি গ্রাহক অভিজ্ঞতায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। মাইক্রোসফট বা মেটার মতো শত শত বিলিয়ন ডলার ব্যয় না করে অ্যাপল নিজস্ব বিনিয়োগকে ১১ বিলিয়ন ডলারে সীমাবদ্ধ রেখে কৌশলগত অংশীদারিত্বের ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে গুগলের জেমিনি মডেলের সাথে সিরি-এর সমন্বয় অ্যাপলের এআই কৌশলের একটি বড় অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক গোপন তথ্য চুরির মামলা এবং এআই অবকাঠামো নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও অ্যাপলের নতুন পণ্যগুলো বাজারে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। বিশেষ করে ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন এবং টাচস্ক্রিন ম্যাকবুক প্রো-এর মতো উদ্ভাবনগুলো আসন্ন ছুটির মৌসুমে অ্যাপলের বাজার শেয়ার আরও সুসংহত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।