কক্সবাজারের ইনানী এলাকায় অনুমোদনহীন ও অবৈধভাবে নির্মিত চারতলা বিশিষ্ট একটি রিসোর্ট বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন ওই রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বৈধ কোনো কাগজপত্র বা সরকারি অনুমোদন দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় গত মঙ্গলবার এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। এর মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কক্সবাজারের ইনানী এলাকায় মেরিন ড্রাইভের পাশে অবৈধভাবে নির্মিত চারতলা বিশিষ্ট একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
- অভিযানের সময় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ ইমারত নির্মাণ বা পরিচালনার পক্ষে কোনো বৈধ অনুমোদনপত্র বা কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
- উপকূলীয় সংরক্ষিত এলাকায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং ফায়ার সার্ভিসসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় দেড় শতাধিক হোটেল-রিসোর্ট বর্তমানে প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কক্সবাজারের ইনানী এলাকায় পরিবেশ আইন ও সরকারি বিধিমালা অমান্য করে গড়ে ওঠা একটি চারতলা বিশিষ্ট অবৈধ রিসোর্ট উচ্ছেদ করেছে জেলা প্রশাসন। মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ স্থাপনাটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। গত মঙ্গলবার পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র বা সরকারি অনুমোদন দেখাতে ব্যর্থ হওয়ার পর প্রশাসন বুলডোজার দিয়ে ভবনটি গুঁড়িয়ে দেয়।
প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ইনানী ও এর আশেপাশের মেরিন ড্রাইভ এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে দেড় শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে অধিকাংশ স্থাপনাতেই পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কিংবা ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র নেই। গত কিছুদিন ধরে এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন।
অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও ইমারত নির্মাণের কোনো নিয়ম না মেনেই ইনানীর এই চারতলা রিসোর্টটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে এবং উপকূলীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করে গড়ে ওঠা এ ধরনের অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে যত্রতত্র পরিবেশ ধ্বংস করে রিসোর্ট নির্মাণের প্রবণতা হ্রাস পাবে।
এই উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে কক্সবাজারের পর্যটন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জোরালো বার্তা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের অন্যান্য পর্যটন অঞ্চলেও অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে অনুরূপ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে পরিবেশ সুরক্ষা এবং সরকারি নিয়ম মেনে অবকাঠামো নির্মাণের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।