রাঙামাটির সাজেক সড়কে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ নবম দিনে গড়িয়েছে। ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধে স্থানীয় জনজীবন ও পর্যটন খাত স্থবির হয়ে পড়েছে। পাঁচ দফা দাবিতে চলমান এই আন্দোলনে গত ২২ অক্টোবর সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী টহল জোরদার করেছে এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বাঘাইহাট জোন পরিদর্শন করেছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ২২ অক্টোবরের হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার।
- অবরোধের প্রথম দিনে সাজেক ভ্যালিতে আটকা পড়া ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটককে ২২ অক্টোবর সকালে সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তায় খাগড়াছড়িতে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়।
- সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ২৯ অক্টোবর বাঘাইহাট জোন পরিদর্শন করে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত সেনাসদস্যদের পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে টানা নবম দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের অবরোধ পালিত হচ্ছে। গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা এই কর্মসূচির ফলে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শুক্রবার সকালে অবরোধকারীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে এবং পর্যটন কেন্দ্রটি পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে।
অবরোধের নেপথ্যে রয়েছে গত ২২ অক্টোবরের সংঘর্ষ ও পরবর্তী উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। আন্দোলনকারীরা মূলত ওই ঘটনায় জড়িতদের বিচার, নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ এবং এলাকা থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। এর আগে ১১ অক্টোবর থেকে আন্দোলন শুরু হলেও শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল। দাবি পূরণ না হওয়ায় ২২ অক্টোবর থেকে পুনরায় তৃতীয় দফার এই অবরোধ শুরু হয়।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বাঘাইহাট জোন পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দুর্গম এলাকায় দায়িত্বরত সেনাসদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পেশাদারিত্ব ও সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন। পরিদর্শনকালে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডারসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তা বাহিনী বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টহল জোরদার করেছে যাতে কোনো বড় ধরনের সহিংসতা না ঘটে।
দীর্ঘমেয়াদী এই অবরোধের ফলে সাজেক কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা। পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, অবরোধের প্রথম দিনেই ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটক আটকা পড়েছিলেন, যাদের সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন না হলে পার্বত্য অঞ্চলের এই পর্যটন হাবের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।