৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"অর্থের বিনিময়ে পদ-বাণিজ্য, শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক ‘সাথী’ পদধারী সালাহউদ্দিন আম্মারকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত বুধবার প্রকাশ্যে আসা তিনটি চিঠিতে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ছাত্রশিবির। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত মাসিক সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে আম্মার এই অভিযোগসমূহ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ-বাণিজ্যের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সালাহউদ্দিন আম্মারকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
- ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শাখা শিবিরের তৎকালীন সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে আম্মারের ‘সাথী’ পদ স্থগিত করে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়।
- গত ৩১ জুলাই শাখা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের স্বাক্ষরিত চিঠিতে আম্মারের ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকার ও ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ এনে নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা তিনটি চিঠির মাধ্যমে সংগঠনের সাবেক ‘সাথী’ সালাহউদ্দিন আম্মারের বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। অর্থের বিনিময়ে পদ-বাণিজ্য, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং ক্ষেত্রবিশেষে ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই বহিষ্কারের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শাখা শিবিরের তৎকালীন সভাপতি এবং বর্তমান রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে আম্মারের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পদ-বাণিজ্যের অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে আনীত অভিযোগগুলোর যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত মাসিক সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে আম্মারের ‘সাথী’ পদ বাতিল করে তাকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া গত ৩১ জুলাই শাখা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের স্বাক্ষরিত অপর এক চিঠিতে নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে আনীত যাবতীয় অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি দাবি করেন, পদ-বাণিজ্য বা নারীদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশার মতো যেসব অভিযোগ তার বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য তৎকালীন উপাচার্যের পরামর্শে বিভিন্ন ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষকতার প্রস্তাব নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
আগামী রাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন এই বহিষ্কারের পেছনে রাজনৈতিক কৌশল ও ‘ডামি প্যানেল’ তত্ত্বের অভিযোগ তুললেও, ছাত্রশিবির তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। শিবিরের স্পষ্ট বক্তব্য হলো—নির্বাচনের এক মাসেরও বেশি সময় আগেই সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আম্মারকে বহিষ্কার করা হয়েছে, ফলে এর সঙ্গে নির্বাচনী হিসাব-নিকাশের কোনো সম্পর্ক নেই। এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার bd-bulletin.com-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।