금융 সংকট ও ব্যাংকিং জটিলতার কারণে দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি কোম্পানি এলপিজি আমদানি করতে না পারায় দুই কোটির বেশি সিলিন্ডার অব্যবহৃত পড়ে আছে। এর ফলে গ্রাহকদের নতুন সিলিন্ডার কিনতে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে এবং পরিবেশকরা গুদামভাড়া ও কর্মী বেতন নিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিষয়টি সমাধানে আলাদা বৈঠকের আশ্বাস দিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বসুন্ধরা, বেক্সিমকো, ওরিয়ন, গ্রিনটাউন, ইউনিটেক্স, জেএমআই ও ইউনিভার্সালসহ বড় সাতটি কোম্পানির আমদানি হ্রাস বা বন্ধ হওয়ায় বাজারে তাদের দুই কোটির বেশি সিলিন্ডার বর্তমানে অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে।
- ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউনিটেক্স আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে এবং বসুন্ধরার আমদানি ১ লাখ ৩৮ হাজার টন থেকে কমে মাত্র ১০ হাজার ২৭ টনে নেমে এসেছে।
- ব্যাংকিং বিধিনিষেধ ও ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে শতভাগ নগদ জামানতের শর্ত পূরণ করতে না পারায় কোম্পানিগুলোর পক্ষে এলপিজি আমদানি অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়নি।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশে বর্তমানে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। আর্থিক সংকট এবং ব্যাংকিং বিধিনিষেধের কারণে শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি কোম্পানি এলপিজি আমদানি করতে না পারায় গ্রাহক ও পরিবেশকদের গুদামে দুই কোটির বেশি সিলিন্ডার অব্যবহৃত পড়ে আছে। এক কোম্পানির সিলিন্ডারে অন্য কোম্পানি গ্যাস ভরতে না পারায় এবং নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের গ্যাস বাজারে না পাওয়ায় গ্রাহকদের বাধ্য হয়ে নতুন সিলিন্ডার কিনতে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় গত দুই অর্থবছরে বসুন্ধরা, বেক্সিমকো, ওরিয়ন, গ্রিনটাউন, ইউনিটেক্স, জেএমআই ও ইউনিভার্সাল কোম্পানির এলপিজি আমদানি মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে কিংবা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইউনিটেক্স ১ লাখ ৫৫ হাজার টন এলপিজি আমদানি করলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা শূন্যে নেমে আসে। একই সময়ে বসুন্ধরার আমদানি ১ লাখ ৩৮ হাজার টন থেকে কমে মাত্র ১০ হাজার ২৭ টনে দাঁড়ায়।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ব্যাংকে ঋণসীমা শেষ হয়ে যাওয়া এবং ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে শতভাগ নগদ জামানতের শর্ত আরোপ করায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ওরিয়ন গ্যাস লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা অনুপ কুমার সেন জানান, পর্যাপ্ত নগদ অর্থের অভাবে শতভাগ জামানত দিয়ে এলসি খোলা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়া ঢাকার পরিবেশক আবু তাহের কোরেশী জানান, প্রায় ৩ হাজার অব্যবহৃত সিলিন্ডার তার গুদামে পড়ে থাকলেও কোনো কোম্পানি তা ফেরত নিচ্ছে না, ফলে দীর্ঘ ৯ মাস ধরে তাকে বাড়তি গুদামভাড়া ও কর্মচারীর বেতন গুনতে হচ্ছে।
সম্প্রতি বিইআরসির এক গণশুনানিতে পরিবেশক ও ভোক্তা প্রতিনিধিরা এই সিলিন্ডার সংকটের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেন। এলপি গ্যাস ট্রেডার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের সভাপতি সেলিম খান ব্যবসায়িক খরচ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে এই অব্যবহৃত সিলিন্ডারগুলোকে দায়ী করে কমিশন বাড়ানোর দাবি জানান। এদিকে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, এই সিলিন্ডার সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং অব্যবহৃত সিলিন্ডারগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে কমিশন শীঘ্রই সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করবে। দেশের এলপিজি বাজারের ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খดের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এই সংকটের দ্রুত সুরাহা না হলে সামগ্রিক জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।