পুলিশের লাঠিপেটার প্রতিবাদ ও পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর হোম ইকোনমিকস কলেজের অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মধ্যরাতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে অধ্যক্ষকে উদ্ধার করা হয়। নীলক্ষেত মোড় অবরোধ ও মুখে কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিক্ষার্থীরা।
- দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখার পর গত মধ্যরাতে পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর সহায়তায় অধ্যক্ষকে উদ্ধার করা হয়।
- অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসে সম্পূর্ণ অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে আগামী তিন দিনের মধ্যে তাঁর পদত্যাগের চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীর সরকারি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে (হোম ইকোনমিকস) শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও সহিংসতার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস ও এর আশেপাশের এলাকা। অধ্যক্ষের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে তীব্র আন্দোলন শুরু করেছেন। মুখে কালো কাপড় বেঁধে ও বিভিন্ন ফেস্টুন হাতে নিয়ে তারা এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন, যার ফলে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এর আগে গতকাল দিনভর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। ক্যাম্পাসের ভেতরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এবং পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মধ্যরাতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অধ্যক্ষকে উদ্ধার করা হয়। তবে উদ্ধার হওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত না হয়ে বরং আরও তীব্র রূপ নেয়, কারণ ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীরা আরও কঠোর অবস্থানে যান।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ অতর্কিত হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে আহত করেছে। এই ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার পর ওই অধ্যক্ষের অধীনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব বলে তারা মনে করছেন। শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন যে, আগামী তিন দিনের মধ্যে যদি অধ্যক্ষ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করেন, তবে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং কলেজ প্রশাসনকে সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়া হবে।
এই সংকটময় পরিস্থিতিতে কলেজটির একাডেমিক কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। সাধারণ অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগী মহল দ্রুত এই সমস্যার একটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমাধান আশা করছেন, যাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন ব্যাহত না হয় এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ দ্রুত ফিরে আসে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা তদন্ত কমিটি গঠনের খবর পাওয়া যায়নি।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।