ভারতের মুম্বাই ও কলকাতায় বোমা হামলার হুমকি ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। খলিস্তান ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ) নামক সংগঠনের পক্ষ থেকে ইমেইলের মাধ্যমে বলিউড সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চন, গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ এবং বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (বিএমসি) কার্যালয় উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি কলকাতা বিমানবন্দরেও টিস্যু পেপারে লিখে হামলার হুমকি পাঠানো হয়। তবে পুলিশি তল্লাশিতে কোনো সন্দেহজনক বস্তু মেলেনি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিএমসি মেয়রের দপ্তরে আসা ইমেইলে খলিস্তান ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ) অমিতাভ বচ্চনের বাংলো ‘জলসা’ ও দিলজিৎ দোসাঞ্জের কনসার্টসহ বিভিন্ন স্কুল ও কার্যালয় হামলার লক্ষ্যবস্তু করার কথা জানায়।
- আগামী ২৭ নভেম্বর মুম্বাইয়ের মহালক্ষ্মী রেসকোর্সে গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জের ‘ইন্ডিয়া ট্যুর’ কনসার্ট হওয়ার কথা রয়েছে এবং এর আগে নিরাপত্তার কারণে দিল্লি পুলিশও অনুমতি প্রত্যাখ্যান করেছিল।
- শুক্রবার সকালে কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মহিলাদের শৌচালয়ে টিস্যু পেপারে 'বিমানবন্দর উড়িয়ে দেওয়া হবে' লেখা হুমকি চিরকুট পাওয়া গেলে সিআইএসএফ ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক তল্লাশি চালায়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভারতের বিনোদন জগত এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বলিউড সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চন, জনপ্রিয় গায়ক-অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ এবং বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (বিএমসি)-এর মেয়র কার্যালয়কে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ইমেইল পাঠানো হয়েছে। একই দিনে কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও একটি হাতে লেখা চিরকুটের মাধ্যমে বোমাতঙ্ক ছড়ানো হয়। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে এবং বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিএমসি মেয়রের দপ্তরে একটি ইমেইল আসে। ‘খলিস্তান ন্যাশনাল আর্মি’ (কেএনএ) নামের একটি সংগঠন এই হুমকির দায় স্বীকার করেছে। ওই বার্তায় আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে ২৭ নভেম্বরের মধ্যে মুম্বাইয়ের মেয়রের কার্যালয়, বেশ কিছু স্কুল এবং জুহুতে অবস্থিত অমিতাভ বচ্চনের বাংলো ‘জলসা’-কে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলা হয়। এছাড়া ২৭ নভেম্বর মহালক্ষ্মী রেসকোর্সে দিলজিৎ দোসাঞ্জের বহুল প্রতীক্ষিত ‘ইন্ডিয়া ট্যুর’ কনসার্ট আয়োজনের স্থানকেও হুমকির আওতায় রাখা হয়েছে। এর আগে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দিল্লি পুলিশও ৩০ অক্টোবর রাজধানীতে তার কনসার্ট আয়োজনের অনুমতি দেয়নি।
এদিকে মুম্বাইয়ের পাশাপাশি কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও বোমাতঙ্কের জেরে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সকালে বিমানবন্দরের একটি মহিলাদের শৌচালয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা টিস্যু পেপারে লেখা একটি হুমকি চিরকুট দেখতে পান। তাতে বিমানবন্দর বোমা দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী (সিআইএসএফ) যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান চালায়। পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশির পর কোনো সন্দেহজনক বিস্ফোরক বা বস্তু না পাওয়া গেলেও যাত্রীদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
প্রাথমিক তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, গত কয়েক মাস ধরে ভুয়া হুমকি ইমেইল পাঠানো চক্রটির সঙ্গেই এই ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে। পুলিশ ও সাইবার ক্রম শাখা যৌথভাবে ইমেইলের উৎস এবং এর পেছনে থাকা মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ চালাচ্ছে। এ ধরনের প্ররোচনামূলক হুমকি কেবল জনমনে আতঙ্কই তৈরি করছে না, বরং বড় ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন ও জনবহুল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার এবং যেকোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি অবিলম্বে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।