অনলাইন কেনাকাটায় জনপ্রিয় হওয়া 'বাই নাও, পে লেটার' (BNPL) বা কিস্তিতে পেমেন্ট করার সুবিধা অজান্তেই আপনার ক্রেডিট স্কোর কমিয়ে দিতে পারে। এনবিএফসি বা ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত এসব লেনদেন ক্রেডিট ব্যুরোতে ঋণ হিসেবে জমা হয়। সময়মতো কিস্তি পরিশোধ না করলে বা একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকলে ভবিষ্যতে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের আর্থিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাই নাও, পে লেটার (BNPL) পরিষেবার মাধ্যমে কেনাকাটা করলে তা সাধারণত ট্রান্সইউনিয়ন সিবিল, এক্সপেরিয়ান, ইকুইফ্যাক্স এবং ক্রাইফ হাই মার্কের মতো ক্রেডিট ব্যুরোতে ঋণ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
- সময়মতো কিস্তি পরিশোধ না করলে বা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তা ক্রেডিট স্কোরে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা পরবর্তীতে গৃহঋণ বা ব্যক্তিগত ঋণ পাওয়ার পথ বন্ধ করতে পারে।
- একাধিক BNPL পরিষেবা একসঙ্গে ব্যবহার করলে গ্রাহকের মোট আর্থিক দায় বা ঋণের বোঝা বেড়ে যায়, যা নতুন ঋণ অনুমোদনের সময় ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বর্তমানে অনলাইন কেনাকাটার দুনিয়ায় 'বাই নাও, পে লেটার' বা বিএনপিএল (BNPL) পরিষেবা অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মোবাইল ফোন, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী থেকে শুরু করে পোশাক কিংবা দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিস—সব ক্ষেত্রেই এককালীন টাকা না দিয়ে কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের এই সুবিধা লুফে নিচ্ছেন ক্রেতারা। তবে এই সুবিধার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি, যা সম্পর্কে অধিকাংশ গ্রাহকই ওয়াকিবহাল নন। সামান্য অবহেলার কারণে এই সেবার ব্যবহার একজন ক্রেতার ক্রেডিট স্কোর কমিয়ে দিতে পারে, যার দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ব্যক্তির সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায়।
সাধারণত বিএনপিএল পরিষেবা প্রদানকারী অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মগুলো সরাসরি ব্যাংক অথবা কোনো না কোনো নন-ব্যাংকিং ফিনান্সিয়াল কোম্পানি বা এনবিএফসি-র (NBFC) সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করে। ফলে গ্রাহক যখন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো পণ্য কেনেন, তখন তা সাধারণ কোনো অনলাইন লেনদেন হিসেবে গণ্য না হয়ে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এর ফলে ঋণদাতা সংস্থার মাধ্যমে ক্রেতার লেনদেনের তথ্য চলে যায় ট্রান্সইউনিয়ন সিবিল, এক্সপেরিয়ান, ইকুইফ্যাক্স কিংবা ক্রাইফ হাই মার্কের মতো স্বীকৃত ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোগুলোতে। সেখানে কত টাকা ঋণ নেওয়া হলো, কত বকেয়া রয়েছে এবং পরিশোধের নিয়মিততা কেমন—তার প্রতিটি তথ্য সংরক্ষিত হয়।
অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিএনপিএল ব্যবহার করলেই যে ক্রেডিট স্কোর স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যাবে বিষয়টি এমন নয়। যদি কোনো গ্রাহক অত্যন্ত নিয়মনিষ্ঠভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিটি কিস্তি পরিশোধ করেন, তবে তা একটি ইতিবাচক রিপেমেন্ট হিস্ট্রি তৈরিতে সাহায্য করে। কিন্তু বিপত্তি ঘটে তখনই, যখন কোনো গ্রাহক কিস্তি পরিশোধে দেরি করেন বা ঋণ খেলাপি হন। এছাড়া একজনের যদি একাধিক বিএনপিএল প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় ঋণ বা অ্যাকাউন্ট থাকে, তবে ঋণদাতারা তাদের মোট আর্থিক দায় বা ডেট বার্ডেন অনেক বেশি বলে ধরে নেন।
এই পরিস্থিতি এড়াতে আর্থিক বিশ্লেষকরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, যেকোনো বিএনপিএল পরিষেবা ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট ঋণদাতা সংস্থার নাম, পরিশোধের শর্ত এবং ক্রেডিট রিপোর্টে তথ্য জমা পড়ার বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ে কিস্তি পরিশোধ নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত নিজের ক্রেডিট রিপোর্ট পরীক্ষা করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কোনো কারণে ক্রেডিট রিপোর্টে ভুল তথ্য প্রদর্শিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ঋণদাতা ও ক্রেডিট ব্যুরোর সঙ্গে যোগাযোগ করে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি, অন্যথায় বড় কোনো ব্যাংক ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে মারাত্মত বাধার মুখে পড়তে হতে পারে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।