৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"সিজারের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই করার দীর্ঘ পাঁচ মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন রাজবাড়ীর নার্স বীথি খাতুন। গত বছর একটি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের পর থেকেই তিনি তীব্র পেটে ব্যথাসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে দফায় দফায় চিকিৎসা নিয়েও শেষ পর্যন্ত তার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় চিকিৎসা অবহেলার জোরালো অভিযোগ উঠেছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- রাজবাড়ীতে সিজারের সময় পেটে গজ রেখে সেলাইয়ের পাঁচ মাস পর মারা গেছেন নার্স বীথি খাতুন, যিনি অস্ত্রোপচারের পর থেকেই তীব্র শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
- অস্ত্রোপচার করা সেই বেসরকারি ক্লিনিক ও চিকিৎসকদের চরম অবহেলার কারণে বীথির পেটের ভেতরে গজ রেখেই ক্ষতস্থান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবার অভিযোগ তুলেছে।
- রাজবাড়ী সদর হাসপাতালসহ ঢাকার বিভিন্ন উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে একাধিকবার অপারেশন ও দীর্ঘ চিকিৎসার পরও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় তার মৃত্যু ঘটে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার এক মর্মান্তিক শিকার হয়ে জীবন হারাতে হলো রাজবাড়ীর নার্স বীথি খাতুনকে। সিজারিয়ান অপারেশনের সময় তার পেটের ভেতরে গজ রেখেই সেলাই করে দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয় তার শারীরিক অবনতি। দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে তীব্র যন্ত্রণা ও ইনফেকশনের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল যখন প্রসববেদনা নিয়ে বীথিকে রাজবাড়ীর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে সফলভাবে সিজার সম্পন্ন হওয়ার কথা জানানো হলেও বাড়ি ফেরার পর থেকেই তার পেটে অসহ্য ব্যথা শুরু হয়। ব্যথার তীব্রতা বাড়লে বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে জানা যায় যে, আগের অপারেশনের সময় তার পেটের ভেতরেই গজ রয়ে গেছে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার পর তার পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে তাকে বাঁচিয়ে তোলার চেষ্টা চালায়।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ভুল চিকিৎসার দায় এড়াতে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকরা শুরু থেকেই নানা টালবাহানা শুরু করেছিলেন। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালসহ ঢাকার বিশেষায়িত হাসপাতালে একাধিকবার অস্ত্রোপচার করে পেট থেকে পচে যাওয়া গজ ও পুঁজ অপসারণ করা হলেও শরীরের ভেতরে মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল। চিকিৎসকরা শতচেষ্টা করেও তার ভাইটাল অর্গানগুলোকে সচল রাখতে পারেননি, ফলে দীর্ঘ শারীরিক যন্ত্রণার অবসান ঘটে তার মর্মান্তিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।
এ ধরনের চিকিৎসাগত ত্রুটি ও অবহেলার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকগুলোর ওপর নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ ও চিকিৎসাবিজ্ঞান সংশ্লিষ্টরা। অবহেলার শিকার হয়ে একজন স্বাস্থ্যকর্মীর এভাবে প্রাণ হারানোর ঘটনা চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর আস্থার সংকট তৈরি করছে। নিহতের পরিবার এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী চিকিৎসক ও ক্লিনিক মালিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার বাংলা ট্রিবিউন-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।