৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে ডিসেম্বরে দেশে ফেরাতে এবং অরাজকতা সৃষ্টির ছক কষছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নাশকতার পরিকল্পনা করছে দলটি। বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় হয়ে তারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক দলগুলো এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো ডিসেম্বরে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর লক্ষ্যে কুমিল্লা সীমান্ত ব্যবহার করে অনুপ্রবেশের পরিকল্পনা করছে, যেখানে সাবেক এমপি বাহারের অনুসারীদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে।
- ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ১৭ বছর ধরে সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে চাঁদা দাবি করছে দলটির অনলাইনভিত্তিক টিমগুলো।
- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দলগুলো ডিসেম্বরের সম্ভাব্য অরাজকতা প্রতিহত করতে রাজপথে সক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছে এবং কুমিল্লা পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনাকে ডিসেম্বরে দেশে ফেরাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ। বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তৎপরতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দলটি ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বড় ধরনের অরাজকতা সৃষ্টির ছক কষছে। বিশেষ করে কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের গুঞ্জন এবং সাবেক এমপি বাহারের অনুসারীদের সক্রিয়তা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে এই আন্দোলনের জোগান দেওয়ার পরিকল্পনা করছে দলটি। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থেকে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা হচ্ছে। কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল মতিনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা মনে করছেন, হাসিনা ও তার অনুসারীদের এই অরাজকতা সৃষ্টির সক্ষমতা নেই, তবুও তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছেন।
এদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুমিল্লা মহানগর শাখা ডিসেম্বরের যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পলাতক নেতাদের নেতৃত্বে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় অনলাইন টিম গঠন করে মাঠপর্যায়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে অস্থিতিশীল করে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোই এই ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর কঠোর অবস্থানের কারণে আওয়ামী লীগের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির যেকোনো অপতৎপরতা রুখতে প্রশাসন ও সচেতন নাগরিক সমাজ এখন সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।