ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরের নোয়াপাড়া বিধানসভার নীলগঞ্জে কেন্দ্রীয় জুট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের একটি সরকারি অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে বিজেপির বিধায়ক কৌস্তব বাগচী স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের তীব্র বিক্ষোভ ও ‘গো ব্যাক’ স্লোগানের মুখে পড়েন। শুক্রবার ঘটা এই ঘটনায় অর্জুন সিংয়ের অনুসারীদের সঙ্গে রাজনৈতিক মতানৈক্য ও তৃণমূল থেকে আসা নতুন নেতাদের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন কৌস্তব।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- শুক্রবার ব্যারাকপুরের নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের নীলগঞ্জে কেন্দ্রীয় জুট রিসার্চ ইনস্টিটিউটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পিএম কিষান সম্মান নিধি সংক্রান্ত একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ফেরার সময় এই বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।
- স্থানীয় একদল নারী-পুরুষ হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিজেপি বিধায়ক কৌস্তব বাগচীর গাড়ি ঘিরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেন এবং পুলিশ এসে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
- ঘটনার পর কৌস্তব বাগচী দাবি করেন এই বিক্ষোভের পেছনে তৃণমূল থেকে সম্প্রতি বিজেপিতে যোগদানকারী ব্যক্তিরা জড়িত এবং তাঁর সহনশীলতাকে দুর্বলতা ভাবলে ‘প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া’ হবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে সম্প্রতি বিজেপির দুই হেভিওয়েট নেতার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তব বাগচী নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের নীলগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় জুট রিসার্চ ইনস্টিটিউটে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে স্থানীয়দের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পিএম কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের ওই সরকারি অনুষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেলেও ফেরার পথেই তাঁর গাড়ি আটকে প্ল্যাকার্ড হাতে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়।
এই অনভিপ্রেত ঘটনার সূত্রপাত মূলত স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ ও দলের অন্দরের কোন্দলকে কেন্দ্র করে। মণীশ শুক্লা হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তের সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিতি নিয়ে অর্জুন সিং ও কৌস্তব বাগচীর মধ্যকার বিরোধ সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জুট রিসার্চ ইনস্টিটিউটটি কোন বিধানসভার অন্তর্গত তা দলীয় নেতৃত্বের নজরে আনার কথা বলে কৌস্তব ইঙ্গিত করেছেন যে এই ঘটনার পেছনে দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিপক্ষেরও প্রচ্ছন্ন মদদ থাকতে পারে।
ঘটনার পরপরই দ্রুত নোয়াপাড়া থানা থেকে পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কৌস্তবের গাড়ি নিরাপদে এলাকা ত্যাগ করতে সাহায্য করে। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পরও বেশ কিছুক্ষণ এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। পুরো বিষয়টি ইতোমধ্যে বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃত্বকে অবহিত করেছেন কৌস্তব বাগচী, যা দলের ভেতরের শৃঙ্খলা ও সমন্বয়হীনতাকে আবারও প্রকাশ্যে এনেছে।
গণমাধ্যমের সামনে কৌস্তব বাগচী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান যে তাঁর ধৈর্য বা সহনশীলতাকে কেউ দুর্বলতা হিসেবে ভুল করলে তার কঠোর রাজনৈতিক জবাব দেওয়া হবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সদ্য বিজেপিতে নাম লেখানো নেতাকর্মীদের প্রভাব এবং পুরনো বনাম নতুন দ্বন্দ্বের জেরে এই ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি আগামী দিনে দলটির স্থানীয় সংগঠনের ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।