২০১১ সালের ২০ অক্টোবর লিবিয়ার দীর্ঘকালীন শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে সিরতে শহরে বিদ্রোহী বাহিনী ও ন্যাটোর যৌথ অভিযौনে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর একটি নিষ্কাশন পাইপে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় তাকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে প্রকাশ্যে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে লিবিয়ায় দীর্ঘ ৪২ বছরের একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং দেশটি চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর লিবিয়ার উপকূলীয় শহর সিরতে ন্যাটোর বিমান হামলার মুখে একটি নর্দমার পাইপে লুকিয়ে ছিলেন মুয়াম্মার গাদ্দাফি।
- পশ্চিমা-সমর্থিত জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের (এনটিসি) বিদ্রোহী যোদ্ধারা গাদ্দাফিকে খুঁজে বের করে এবং আটকের পরপরই শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে।
- গাদ্দাফির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার ৪২ বছরের ক্ষমতার অবসান ঘটলেও লিবিয়া আজও স্থায়ী শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করতে পারেনি।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
২০১১ সালের ২০ অক্টোবর লিবিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের শহর সিরতে এক ঐতিহাসিক ও রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের অবসান ঘটে। দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে লিবিয়া শাসন করা স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি পশ্চিমা-সমর্থিত বিদ্রোহী বাহিনী এবং ন্যাটোর সামরিক জোটের যৌথ অভিযানের মুখে নিহত হন। দীর্ঘ কয়েক মাসের গৃহযুদ্ধ ও ত্রিপোলির পতনপ্রান্তে গাদ্দাফি তার জন্মস্থান সিরতে এসে শেষ প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।
সেদিন সকালে গাদ্দাফির গাড়িবহরের ওপর ন্যাটো বাহিনী বিমান হামলা চালালে তা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। হামলার পর প্রাণে বাঁচতে গাদ্দাফি তার অনুগত রক্ষীদের নিয়ে একটি বড় ড্রেনেজ পাইপের ভেতরে আশ্রয় নেন। কিন্তু বিদ্রোহী ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এনটিসি) যোদ্ধারা দ্রুত সেই এলাকা ঘিরে ফেলে এবং তাকে পাইপের ভেতর থেকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে আনে। আটকের পর তাকে ঘিরে উল্লাস ও চরম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়, যার ভিডিওচিত্র বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, গাদ্দাফিকে জীবিত অবস্থায় আটক করা হলেও আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে তাকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়। তার মৃত্যুর পর তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এক সাক্ষাৎকারে বিদ্রূপাত্মক ভঙ্গিতে বলেছিলেন, 'আমরা এসেছি, আমরা দেখেছি, সে মারা গেছে।' এই হত্যাকাণ্ডের পর লিবিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং পশ্চিমা শক্তিগুলো দেশটিতে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা কেবল কাগজের পাতাতেই সীমাবদ্ধ ছিল।
মুয়াম্মার গাদ্দাফির করুণ পতন এবং তার পরবর্তী বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ভূরাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। গাদ্দাফির পতনের পর লিবিয়া একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয় এবং বিভিন্ন সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতার লড়াই শুরু হয়, যা আজও লিবিয়ার সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখে ফেলছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, গাদ্দাফির নির্মম হত্যা এবং পরবর্তী রাষ্ট্রগঠনের ভুল পরিকল্পনা লিবিয়াকে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।