৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"বিগত পাঁচ বছরে প্রাকৃতিক হীরার দাম অর্ধেকের বেশি কমেছে। র্যাপাপোর্ট গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে এক ক্যারেট প্রাকৃতিক হীরার গড় দাম ৮ হাজার ৭ ডলার বা ৯ লাখ ৮৪ হাজার টাকা থাকলেও বর্তমানে তা কমে ৩ হাজার ৮৯৮ ডলার বা ৪ লাখ ৭৯ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ এবং সস্তা ল্যাব-গ্রোন হীরার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির ফলে এই দরপতন ঘটেছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- র্যাপাপোর্ট গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, এক ক্যারেট প্রাকৃতিক হীরার গড় দাম ২০২১ সালের ৮ হাজার ৭ ডলার থেকে কমে বর্তমানে ৩ হাজার ৮৯৮ ডলারে নেমে এসেছে, যা প্রায় ৫১ শতাংশ কম।
- ডায়মন্ড স্ট্যান্ডার্ড ইনডেক্স গত আগস্টের শুরুতে ২ হাজার ৪৯০ পয়েন্টে নেমে এসেছে, যা এই বিনিয়োগযোগ্য মানের প্রাকৃতিক হীরার সূচকের ইতিহাসে সর্বনিম্ন অবস্থান।
- দ্য নটের ২০২৬ রিয়েল ওয়েডিংস স্টাডি অনুসারে, ২০২৫ সালে বিক্রি হওয়া বাগদানের আংটির ৬১ শতাংশে কেন্দ্রীয় পাথর হিসেবে ল্যাব-গ্রোন হীরা ব্যবহৃত হয়েছে, যা ২০২০ সালের তুলনায় ২৩৯ শতাংশ বেশি।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দীর্ঘদিন ধরে বিলাসিতা ও আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত প্রাকৃতিক হীরার বাজারে গত পাঁচ বছরে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। র্যাপাপোর্ট গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, এক ক্যারেট প্রাকৃতিক হীরার গড় দাম বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ৮৯৮ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৭৯ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। অথচ ২০২১ সালে একই আকারের হীরার গড় দাম ছিল প্রায় ৮ হাজার ৭ ডলার বা ৯ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে প্রাকৃতিক হীরার দাম কমেছে প্রায় ৫১ শতাংশ। ডায়মন্ড স্ট্যান্ডার্ড ইনডেক্স গত আগস্টের শুরুতে ২ হাজার ৪৯০-এ নেমে আসে, যা এই সূচকের ইতিহাসের সর্বনিম্ন অবস্থান।
হীরার দামের এই পতনের পেছনে মূল কারণ হলো বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ এবং গবেষণাগারে তৈরি বা ল্যাব-গ্রোন হীরার দ্রুত জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি। করোনা মহামারির সময় উৎপাদন বাড়ার পর ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বিপুল পরিমাণ অবিক্রীত হীরা জমে যায়। ডায়মন্ড স্ট্যান্ডার্ডের প্রধান নির্বাহী করম্যাক কিনির মতে, অতিরিক্ত মজুতের পাশাপাশি কম দামে ল্যাব-গ্রোন হীরার সহজলভ্যতা প্রাকৃতিক হীরার বিক্রিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ব্রিলিয়ান্ট আর্থের বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রায় বর্ণহীন এক ক্যারেট ল্যাব-গ্রোন হীরার দাম প্রায় ৪৫০ ডলার বা ৫৫ হাজার ৩০০ টাকা হতে পারে, যেখানে সমমানের প্রাকৃতিক হীরার দাম ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
দাম কম হওয়ায় ক্রেতাদের পছন্দেও এসেছে পরিবর্তন। দ্য নটের ২০২৬ রিয়েল ওয়েডিংস স্টাডি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিক্রি হওয়া বাগদানের আংটির ৬১ শতাংশেই কেন্দ্রীয় পাথর হিসেবে ল্যাব-গ্রোন হীরা ব্যবহার করা হয়েছে, যা ২০২০ সালের তুলনায় ২৩৯ শতাংশ বেশি। ফরচুন বিজনেস ইনসাইটসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ২৯ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারের ল্যাব-গ্রোন হীরার বাজার ২০৩৪ সালে বেড়ে প্রায় ৯২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে প্রাকৃতিক হীরার দাম ধরে রাখতে ডি বিয়ার্স গ্রুপ দক্ষিণ আফ্রিকার ভেনেশিয়া খনিতে দুই বছরের বেশি সময় উৎপাদন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এবং ২০২৬ সালে অন্তত দুটি খনি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর রয়েছে।
এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, হীরাকে সোনার মতো নিরাপদ আর্থিক বিনিয়োগ হিসেবে মূল্যায়ন করা কঠিন, কারণ প্রতিটি পাথরের আকার ও মান আলাদা এবং এর পুনর্বিক্রয় বাজারও বেশ দুর্বল। অনেক ক্ষেত্রে খুচরা দামের অর্ধেকেরও কম দামে তা বিক্রি করতে হয় এবং দ্বিতীয় বাজারে একটি পাথর বিক্রি করতে এক বছরের বেশি সময়ও লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞরা হীরা কেনার মূল উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত পছন্দ ও ব্যবহার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন, কোনো আর্থিক বিনিয়োগ হিসেবে নয়। খনি বন্ধ করে সরবরাহ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও ল্যাব-গ্রোন হীরার ব্যাপক প্রসারের কারণে প্রাকৃতিক হীরার বাজার পুনরুদ্ধার নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার Kaler Alo-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।