যুক্তরাষ্ট্রের এক পার্কে হাঁটার সময় এয়ারবাড হারিয়ে ফেলেন এক নারী। দীর্ঘক্ষণ খুঁজেও সেটি না পেয়ে তিনি ওপেনএআই-এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির সাহায্য নেন। তার বর্ণনা করা পারিপার্শ্বিক দৃশ্য ও একটি ছবির ভিত্তিতে চ্যাটজিপিটি নিখুঁতভাবে ইয়ারবাডের অবস্থান শনাক্ত করে দেয়, যা প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- যুক্তরাষ্ট্রের একটি পাবলিক পার্কে হাঁটার সময় ব্যবহারকারীর একটি দামি ইয়ারবাড মাটিতে পড়ে হারিয়ে যায় এবং অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তা পাওয়া যাচ্ছিল না।
- হতাশ ব্যবহারকারী তখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির সাহায্য নেন এবং পার্কের চারপাশের পরিবেশের বর্ণনা ও ছবি ইনপুট দেন।
- চ্যাটজিপিটি তার ভিজ্যুয়াল ও লজিক্যাল অ্যানালাইসিস ক্ষমতা ব্যবহার করে চোখের পলকে ইয়ারবাডের সম্ভাব্য নিখুঁত অবস্থান চিহ্নিত করে দেয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দৈনন্দিন জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কীভাবে মানুষের নানা জটিল সমস্যার সমাধান করছে, তার এক অভিনব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ওপেনএআই-এর চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এক পার্কে মর্নিংওয়াক করার সময় এক নারী তার কানের একটি ইয়ারবাড ঘাস বা মাটিতে হারিয়ে ফেলেন। পার্কের সবুজ ঘাস ও ঝোপঝাড়ের মধ্যে ক্ষুদ্রাকৃতির ডিভাইসটি খুঁজে পাওয়া খড়ের গাদায় সূচ খোঁজার সমান ছিল। দীর্ঘক্ষণ হন্যে হয়ে খুঁজেও যখন কোনো হদিস মিলছিল না, তখন তিনি প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন।
হারিয়ে যাওয়া ইয়ারবাড উদ্ধারে তিনি স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়ে চারপাশের পরিবেশের কয়েকটি ছবি তোলেন এবং চ্যাটজিপিটিতে আপলোড করেন। একই সঙ্গে তিনি ঘাস, গাছের অবস্থান এবং কোন সময়ে সেটি পড়ে যেতে পারে তার একটি আনুমানিক বিবরণ চ্যাটবটটিকে জানান। এআই প্রযুক্তির আধুনিক ভিশন ক্যাপাবিলিটি কাজে লাগিয়ে চ্যাটজিপিটি ছবিগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে।
বিশ্লেষণ শেষে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীকে সুনির্দিষ্ট একটি ঝোপের গোড়ায় এবং নির্দিষ্ট ঘাসের পাতার নিচে দেখার নির্দেশ দেয়। চ্যাটবটের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই নির্দিষ্ট স্থানে হাত বাড়াতেই হারিয়ে যাওয়া ইয়ারবাডটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এই আকস্মিক ও চমকপ্রদ অভিজ্ঞতার কথা ওই নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে এআই কেবল চ্যাট বা লেখালেখির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মাল্টিমোডাল ক্যাপাবিলিটি মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের ছোটখাটো কিন্তু বিরক্তিকর সমস্যার সমাধানেও বিপ্লব ঘটাচ্ছে। ভবিষ্যতে হারানো জিনিসপত্র খোঁজা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নিখোঁজ বস্তু উদ্ধারে এই ধরনের ভিজ্যুয়াল এআই টুলগুলোর ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।