আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং ২০৩১ সালের মধ্যে পাট রপ্তানি আয় ১৬৪ কোটি ডলারে উন্নীত করতে ২ হাজার ৩২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২টি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই উদ্যোগে পাটবীজ উৎপাদন, আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়, ডিজিটাল ডেটাবেইস তৈরি এবং বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ২ হাজার ৩২০ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ১২টি নতুন প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে, যার পুরো অর্থায়ন করবে সরকার।
- প্রস্তাবিত ১২টি প্রকল্পের মধ্যে পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে ৩০০ কোটি টাকা, আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ৩০০ কোটি টাকা এবং রাজশাহী ও রংপুরে রপ্তানিমুখী উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।
- ২০২০-২১ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় ১১৬ কোটি ডলার হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে ৮৮ কোটি ৩৬ লাখ ৯০ হাজার ডলারে নেমেছে, যা পুনরুদ্ধারে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আমদানি করা পাটবীজের ওপর নির্ভরতা কমানো, মূল্য সংযোজিত পাটপণ্যের উৎপাদন বাড়ানো এবং ২০৩১ সালের মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে বার্ষিক আয় ১৬৪ কোটি ডলারে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে পাটশিল্প পুনরুজ্জীবনে ২ হাজার ৩২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২টি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে সরকার। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পগুলো ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে এবং সম্প্রতি অনুমোদনের জন্য তা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। সোনালি আঁশের দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও বাংলাদেশ বর্তমানে চাহিদার ৮০ শতাংশের বেশি পাটবীজ আমদানি করে থাকে। কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক সম্পর্কে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এবং পাট খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্বনির্ভরতা অর্জন করতেই এই বৃহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ১২টি প্রকল্পের আওতায় সুনির্দিষ্ট খাতের উন্নয়নে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বীজ উৎপাদনকারী এলাকায় বর্ধিত উৎপাদন ও বিতরণ কর্মসূচির মাধ্যমে পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে ৩০০ কোটি টাকা, আধুনিক পাট কাটার ও আঁশ ছাড়ানোর যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ৩০০ কোটি টাকা এবং উৎপাদনশীলতা ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে যৌথ গবেষণার জন্য ১২০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া পাটের তথ্য সংরক্ষণে ১৫০ কোটি টাকা, লবণাক্ত ও পাহাড়ি অনাবাদি জমিতে চাষ সম্প্রসারণে ১০০ কোটি টাকা, রাজশাহী ও রংপুরে বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনে ২৫০ কোটি টাকা এবং পাটখড়ি থেকে চারকোল উৎপাদনে ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিসম্পন্ন পরীক্ষাগার ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ২৮০ কোটি টাকা এবং ডিজিটাল ক্রয়ব্যবস্থা উন্নয়নে ১০০ কোটি টাকার আরও দুটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় ছিল ১১৬ কোটি ডলার, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২৪ শতাংশ কমে ৮৮ কোটি ৩৬ লাখ ৯০ হাজার ডলারে নেমেছে। মূল্য সংযোজিত পণ্যের সীমিত উৎপাদন, বাজারে প্রবেশের সুযোগ সংকুচিত হওয়া, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং ভারতের আরোপ করা অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কের কারণে এই রপ্তানি আয় কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পাশাপাশি দেশের ২৬৬টি পাটকলের মধ্যে ৭৩টি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষাগারের অভাব এই খাতের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম কিছু সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, শুধু উৎপাদন নয়, এ শিল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশি ও বিদেশি বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা এবং পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন যথাযথভাবে কার্যকর করা। ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কের কারণে রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এবং প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর অনেকগুলো আমলাতান্ত্রিক ও সরবরাহনির্ভর হওয়ায় তিনি বাজার সম্প্রসারণ ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের নজর বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।