আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই জায়ান্ট ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে ব্যক্তিগত কম্পিউটার বা স্মার্টফোনে রেম ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই। চیکی পিন্ট পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিশ্বজুড়ে সীমিত ডি-র্যামের মাত্র পাঁচ শতাংশ ব্যক্তিগত ডিভাইসে ব্যবহৃত হয়। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার স্বার্থে সমস্ত মেমোরি চিপ ডেটা সেন্টারের হাতে থাকা উচিত।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান ব্যক্তিগত কম্পিউটার ও স্মার্টফোনে ডি-র্যাম ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছেন যে মেমোরি চিপের প্রকৃত স্থান ডেটা সেন্টার।
- ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে’র রিপোর্ট অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটির নির্মাতা সংস্থা ওপেনএআই একাই ২০৩০ সাল পর্যন্ত কম্পিউটিং-পাওয়ার খাতে ৭৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা নিয়েছে।
- স্যাম অল্টম্যানের দাবি অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত সীমিত পরিমাণ র্যামের মাত্র পাঁচ শতাংশ ব্যক্তিগত কম্পিউটারে ব্যবহৃত হয়, যা এআই মডেলের প্রসারে বড় বাধা।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সাধারণ কম্পিউটার, ল্যাপটপ কিংবা স্মার্টফোনে ডায়নামিক র্যান্ডম অ্যাক্সেস মেমোরি বা র্যাম ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর কর্ণধার স্যাম অল্টম্যান। সম্প্রতি ‘চিকি পিন্ট’ পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন যে, ব্যক্তিগত ডিভাইসে র্যাম ব্যবহারের প্রবণতা বর্জন করা উচিত এবং সমস্ত মেমোরি চিপ বা র্যামের নিয়ন্ত্রণ ডেটা সেন্টারের হাতে ন্যস্ত করা উচিত। বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপ ও ডি-র্যামের তীব্র ঘাটতির প্রেক্ষাপটে তাঁর এই মন্তব্য প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ থেকে শুরু করে আধুনিক গাড়ির ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম এবং ভিডিও গেম কনসোলে র্যাম একটি অপরিহার্য উপাদান। স্যাম অল্টম্যানের মতে, আন্তর্জাতিক বরাদ্দের নিরিখে বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্যাম উল্লেখ করেন যে, বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত সীমিত পরিমাণ র্যামের বড় একটি অংশ ব্যক্তিগত কম্পিউটারে অলস পড়ে থাকে এবং এর মাত্র পাঁচ শতাংশ প্রকৃত অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেখানে মেমোরি চিপের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই, সেখানে ব্যক্তিগত ডিভাইসে র্যাম ব্যবহারের পরিবর্তে ক্লাউডভিত্তিক প্রযুক্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
স্যাম অল্টম্যানের এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে এআই খাতের ক্রমবর্ধমান মেমোরি সংকট। স্যামসাং এবং এসকে হাইনিক্সের মতো হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপ সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু জেনারেটিভ এআই মডেলের প্রশিক্ষণ ও পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ কম্পিউটিং পাওয়ার ও মেমোরির প্রয়োজন হওয়ায় গুগল, অ্যামাজন এবং ওপেনএআই-এর মতো প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো আগেভাগেই বড় অংশের জোগান সংরক্ষণ করছে। ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে’ প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওপেনএআই একা কেবল ২০৩০ সাল পর্যন্ত কম্পিউটিং অবকাঠামো খাতে ৭৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে মেমোরি চিপের দাম হু হু করে বাড়ায় সাধারণ ল্যাপটপ ও স্মার্টফোনের উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্যাম অল্টম্যানের এই বক্তব্য সিলিকন ভ্যালিতে স্বনিয়ন্ত্রিত লোকাল এআই মডেল বনাম ক্লাউড-নির্ভর লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের মধ্যকার সুপ্ত সংঘাতকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। সাধারণ ব্যবহারকারীরা যখন ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরতা কমাতে ব্যক্তিগত ডিভাইসে ওপেন সোর্স এআই মডেল চালাতে সচেষ্ট, ঠিক তখনই শীর্ষস্থানীয় এআই কর্তাদের এমন মানসিকতা প্রযুক্তি বাজারের গতিপ্রকৃতি এবং হার্ডওয়্যার শিল্পের ভবিষ্যৎকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।