আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের ওপর বিশেষ অতিরিক্ত শুল্ক বা উইন্ডফল প্রফিট ট্যাক্স পুনর্নির্ধারণ করেছে ভারত সরকার। এর অংশ হিসেবে পেট্রল রপ্তানির ওপর থেকে সম্পূর্ণ শুল্ক তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব আয়ের ভারসাম্য বজায় রাখতে ডিজেল ও বিমান জ্বালানির (এটিএফ) রপ্তানিতে শুল্কের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পেট্রল রপ্তানির ওপর ধার্য করা বিশেষ অতিরিক্ত শুল্ক বা উইন্ডফল প্রফিট ট্যাক্স সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক।
- আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিজেল রপ্তানিতে শুল্ক প্রতি লিটারে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
- বিমান জ্বালানি বা এভিয়েশন টার্বাইন ফুয়েল (এটিএফ) রপ্তানির ওপরও শুল্ক বা লেভির পরিমাণ বাড়িয়ে নতুন হার কার্যকর করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্যের দামের তারতম্যের ওপর ভিত্তি করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার উইন্ডফল প্রফিট ট্যাক্স বা বিশেষ অতিরিক্ত শুল্কের নতুন হার ঘোষণা করেছে। এই সংশোধিত নির্দেশিকায় পেট্রল রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সমস্ত শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি রপ্তানিকারকদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।
এর আগে বৈশ্বিক বাজারের অতি মুনাফাকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করতে সরকার এই রপ্তানি শুল্ক আরোপ করেছিল। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার প্রেক্ষাপটে পেট্রল থেকে শুল্ক তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে পেট্রল অবমুক্ত করা হলেও, ডিজেল ও বিমান জ্বালানি বা এভিয়েশন টার্বাইন ফুয়েল (এটিএফ) রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকারের নীতি কঠোর রয়েছে। এই দুটি জ্বালানির ওপর লেভির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে, যাতে অভ্যন্তরীণ বাজারে ঘাটতি তৈরি না হয় এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারের রাজস্ব সুরক্ষিত থাকে। দেশের স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পাক্ষিক শুল্ক সংশোধন দেশের তেল শোধনাগারগুলোর রপ্তানি কৌশল ও অভ্যন্তরীণ মূল্য নির্ধারণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দামের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই এই নীতি পরিবর্তন করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন রিফাইনারি কোম্পানিগুলোর মুনাফার সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হবে। সামগ্রিকভাবে দেশের জ্বালানি অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।