৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"ইতিহাসে মহামারি সৃষ্টিকারী প্লেগ রোগ নিয়ে নতুন করে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি রুশ এক গবেষণাগারের কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ শঙ্কা প্রকাশ করেছে। ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়ানো ব্যাকটিরিয়াজনিত এই রোগটি নিউমোনিক ও বুবনিক প্লেগ আকারে মানবদেহে আক্রমণ করে। জ্বর ও কাশির আড়ালে লুকিয়ে থাকা রোগটির সংক্রমণ রোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্কতামূলক পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- প্লেগ হলো 'ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস' (Yersinia pestis) নামক ব্যাকটেরিয়াজনিত অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা মূলত ইঁদুর ও বন্য প্রাণীর গায়ে থাকা মশার কামড় বা সংক্রামিত পশুর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়ায়।
- ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী, মধ্যযুগে 'ব্ল্যাক ডেথ' বা প্লেগ মহামারিতে ইউরোপের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয় হিসেবে পরিচিত।
- সাম্প্রতিক সময়ে রুশ প্লেগ গবেষণাগারের এক কর্মীর মৃত্যুর পর নিউমোনিক প্লেগের ভয়াবহতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক গবেষক মহলে নতুন করে উদ্বেগ ও সতর্কতা দেখা দিয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ইতিহাসের পাতায় বহুবার মানবসভ্যতায় মহাদুর্যোগ ডেকে আনা প্রাণঘাতী প্লেগ রোগ নিয়ে বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি রাশিয়ার একটি প্লেগ গবেষণাগারের এক কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। জ্বর ও কাশির সাধারণ লক্ষণের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই রোগটি কতটা মারাত্মক হতে পারে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো নতুন করে গবেষণা ও নজরদারি শুরু করেছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, প্লেগ কোনো সাধারণ রোগ নয়; এটি 'ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস' নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে হয়ে থাকে। প্রধানত ইঁদুর এবং সংক্রামিত বন্য পশুপাখির শরীরে থাকা মশার মাধ্যমে এটি ছড়ায়। অতীতে মধ্যযুগে 'ব্ল্যাক ডেথ' নামে পরিচিত এই মহামারিতে ইউরোপের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। রোগটি মূলত তিন প্রকারে প্রকাশিত হতে পারে—বুবনিক প্লেগ, সেপ্টিসেমিক প্লেগ এবং নিউমোনিক প্লেগ। এর মধ্যে নিউমোনিক প্লেগ সরাসরি ফুসফুসকে আক্রমণ করে এবং এটি অত্যন্ত দ্রুত মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে অন্য ব্যক্তিতে সংক্রমিত হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও রোগ নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্লেগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে হঠাৎ তীব্র জ্বর, কাঁপুনি, মাথা ব্যথা, দুর্বলতা এবং বুবনিক প্লেগের ক্ষেত্রে লিম্ফ নোড ফুলে গিয়ে ব্যথা হওয়া। নিউমোনিক প্লেগের ক্ষেত্রে কাশির সঙ্গে রক্ত যাওয়া এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। সময়মতো অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ না করলে এই রোগে মৃত্যুর হার অত্যন্ত বেশি। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের ফলে এর নিরাময় সম্ভব হলেও, গবেষণাগারে এর পরিব্যক্তি বা বায়োসেফটি লঙ্ঘন বড় ধরনের বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
রুশ গবেষকের মৃত্যুর পর বিশ্বব্যাপী সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা গবেষণাগারগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা বজায় রাখার তাগিদ দিয়েছেন। একইসঙ্গে জ্বর ও সর্দি-কাশির মতো সাধারণ লক্ষণগুলোকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও সীমান্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য গবেষকরা।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার বিবিসি বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।