গুজরাতের ভিলদিতে ১৪ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, জীবনের অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি দেশবাসীর সেবা করবেন। সম্প্রতি পাটনায় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের করা এক কুরুচিকর মন্তব্যের জবাবে মোদি বলেন, দেশের কঠিন পরিস্থিতিতে কিছু মানুষ আনন্দ পান এবং তাঁর সরকার কৃষকদের কল্যাণে সবসময় অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গুজরাতের বনসকাঁথা জেলার ভিলদিতে ১৪ হাজার কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।
- কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সম্প্রতি পাটনায় করা এক বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে তিনি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত দেশবাসীর সেবা করে যাবেন।
- মোদি জানান, তাঁর সরকার 'পিএম-কিষাণ সম্মান নিধি' প্রকল্পের আওতায় দেশের ক্ষুদ্র কৃষকদের হাতে ইতিমধ্যে ৪.৫ লক্ষ কোটি টাকা পৌঁছে দিয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
গুজরাতের বনসকাঁথা জেলার ভিলদি শহরে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মোট ১৪ হাজার কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল 'ভারত গবাদি পশু প্রজনন ও গবেষণা কেন্দ্র'-এর উদ্বোধন। এই জনসভা থেকেই কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের করা সাম্প্রতিক বিতর্কিত মন্তব্যের কড়া জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। পটনার একটি অনুষ্ঠানে খাড়গে মোদিকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন, যা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
এই রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর ভাষণে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, রাজনৈতিক আক্রমণ যতই তীব্র হোক না কেন, জীবনের অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি দেশের সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন। বিরোধী শিবিরকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের কঠিন পরিস্থিতিতে কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে গুজব ছড়িয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের সময় সার ও রান্নার গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই ধরনের অপপ্রচারের মূল উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে এবং তাঁর সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করা। অথচ বৈশ্বিক বাজারে সারের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেলেও তাঁর সরকার সেই আর্থিক বোঝা দেশের কৃষকদের ওপর পড়তে দেয়নি। আন্তর্জাতিক সংকটের মধ্যেও সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা হয়েছে এবং কৃষকদের উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অনুষ্ঠানে কৃষকদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মোদি জানান, বর্তমান সরকারের আমলে 'পিএম-কিষাণ সম্মান নিধি' প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৪.৫ লক্ষ কোটি টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খাড়গের ব্যক্তিগত আক্রমণকে পাশ কাটিয়ে উন্নয়নের পরিসংখ্যান এবং জনকল্যাণমূলক কাজের ফিরিস্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী প্রকারান্তরে বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক কৌশলকে ভোঁতা করারই চেষ্টা করেছেন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।