ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে পঞ্চম দিনের মতো সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে তীব্র বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন এবং পুলিশের ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। এদিকে, নবগঠিত মজুরি বোর্ড জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে এবং কর্মীরা তা জানুয়ারি মাসে হাতে পাবেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পঞ্চম দিনের মতো তীব্র বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ পালিত হয়।
- নবগঠিত মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা শেষে সদস্য বাবুল আখতার জানান, নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের পহেলা ডিসেম্বর থেকেই কার্যকর করা হবে এবং কর্মীরা তা জানুয়ারিতে তুলতে পারবেন।
- পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুর এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিজিবি, এসআরবি এবং আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং সংঘর্ষের সময় সাভারে পুলিশের একটি ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ত্রিশ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানী ঢাকার আশপাশসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পঞ্চম দিনের মতো তীব্র বিক্ষোভ ও আন্দোলন চালিয়ে গেছেন পোশাক শ্রমিকেরা। বুধবার সকাল থেকে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পয়েন্টে শ্রমিকরা জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বেশ কিছু স্থানে যানবাহন ভাঙচুর ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
চলমান এই শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যেই নবগঠিত মজুরি বোর্ড জরুরি সভা করে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার বোর্ডের প্রথম সভা শেষে সদস্য বাবুল আখতার সাংবাদিকদের জানান, শ্রমিক ও মালিক পক্ষের প্রতিনিধিদের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, নতুন মজুরি যত টাকাই নির্ধারিত হোক না কেন, তা চলতি বছরের পহেলা ডিসেম্বর থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে এবং শ্রমিকরা তা জানুয়ারি মাসের বেতনের সাথে হাতে পাবেন। বেলা সাড়ে ১১টায় এই সভা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মাঠের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দ্রুত সম্পন্ন করা হয়।
তবে মজুরি বোর্ডের এই আশ্বাসের মধ্যেও মাঠের আন্দোলন থামেনি। গাজীপুরের বাংলাবাজার, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, চৌরাস্তা এবং নলজানি এলাকায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এর আগে গত মঙ্গলবার আন্দোলন চলাকালীন ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে এক শ্রমিক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছিল। সাভারের হেমায়েতপুর ও পদ্মার মোড় এলাকায় শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে এবং পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদুনে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। সাভারে সংঘর্ষের একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সাভার থানার ওসির ওপর চড়াও হন এবং একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেন।
দিনভর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সহিংসতার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়। শিল্প পুলিশ-১ এর তথ্য অনুযায়ী, সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকায় প্রায় আটশ পোশাক কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে কিছু কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হলেও বাকিগুলোতে দুপুরের পর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ওই সমস্ত অঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও এসআরবি মোতায়েন রাখা হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।