প্রাথমিক স্তরে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ, অননুমোদিত প্লে-নার্সারি-কেজি কোর্স নিষিদ্ধ এবং অতিরিক্ত বইয়ের চাপ বন্ধের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এ নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রাথমিক শিক্ষা সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের ৫ দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে, অন্যথায় হাইকোর্টে রিট করা হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সরকারের চার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কাছে এই আইনি নোটিশ পাঠান।
- নোটিশে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে প্রাথমিক স্তরে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ, প্লে-নার্সারি-কেজি নিষিদ্ধ এবং এনসিটিবির অনুমোদিত বইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই চাপানো বন্ধের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
- নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে শিশুদের মৌলিক অধিকার ও সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
প্রাথমিক স্তরে অননুমোদিত ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ, প্লে, নার্সারি ও কেজির মতো প্রাক-প্রাথমিক কোর্স নিষিদ্ধ এবং অতিরিক্ত বইয়ের চাপ বন্ধের দাবিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে এই নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এই নোটিশে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় শিশুদের স্বার্থ রক্ষায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদ এবং প্রাথমিক শিক্ষা (বাধ্যতামূলককরণ) আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বজনীন ও বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হলেও কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের প্লে, নার্সারি, কেজি-১ ও কেজি-২-এর মতো একাধিক স্তরে ভর্তি করছে। অল্প বয়সে শিশুদের ওপর লিখিত, স্ক্রিনিং ও মৌখিক পরীক্ষার মতো প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার বোঝা চাপানো হচ্ছে, যা তাদের স্বাভাবিক শৈশব, মানসিক বিকাশ ও সৃজনশীলতাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। এর ফলে শিশুদের মধ্যে ভীতি, মানসিক চাপ এবং আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে বলে নোটিশে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
আইনি নোটিশে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক প্রকাশনা সংস্থার যোগসাজশে এনসিটিবির নির্ধারিত পাঠ্যবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত ব্যাকরণ বই, ওয়ার্কবুক ও সহায়ক বই শিশুদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই অতিরিক্ত পড়াশোনা ও মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা শিশুদের শারীরিক ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই ধরনের বাণিজ্যিক প্রবণতা সংবিধানের ১৭, ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত শিক্ষার সুযোগ, সমতা এবং জীবন ও ব্যক্তিসত্তার সুরক্ষার নীতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে পাঁচ দিনের আল্টিমেটামে অননুমোদিত প্রাক-প্রাথমিক কোর্স ও ভর্তি পরীক্ষা বন্ধের পাশাপাশি অতিরিক্ত বই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিবন্ধন বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তদারকি দল গঠন করে এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া না হলে কোমলমতি শিশুদের সুরক্ষায় উচ্চ আদালতের দারস্থ হবেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।