৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"ক্যাশলেস সোসাইটি বিনির্মাণে আগামী নভেম্বর থেকে ‘বাংলা কিউআর’ কোডে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেন সুবিধা চালু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান লেনদেন ফি সম্পূর্ণ ফ্রি করা হয়েছে। জুনের তুলনায় সেপ্টেম্বরে বাংলা কিউআরে দৈনিক লেনদেন ৩৭ কোটি থেকে পাঁচ গুণ বেড়ে ১৮০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আগামী নভেম্বর থেকে রিকশাচালক ও মুচিসহ সর্বস্তরের নাগরিকদের জন্য বাংলা কিউআরে পিটুপি (P2P) লেনদেন চালু হচ্ছে এবং সব অঙ্কের আন্তঃসংযোগ ফি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
- বাংলা কিউআর ব্যবস্থার আওতায় দৈনিক গড় লেনদেন জুনের ৩৭ কোটি টাকা থেকে চার গুণেরও বেশি বেড়ে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে দাঁড়িয়েছে ১৮০ কোটি টাকায়, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য দৈনিক ৩,০০০ কোটি টাকা।
- ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) সক্ষমতা বৃদ্ধি করে প্রায় ১০০টি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে একক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হয়েছে; যাতে গুগল, মেটা ও হুয়াওয়ের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানও আগ্রহ দেখিয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ডিজিটাল ও ক্যাশলেস লেনদেনের আওতায় আনতে আগামী নভেম্বর থেকে ‘বাংলা কিউআর’ কোডের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেন চালুর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সুবিধা কার্যকর হলে রিকশাচালক, ফুটপাতের দোকানি থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকরা নিজস্ব কিউআর কোড ব্যবহার করে সরাসরি অর্থ লেনদেন করতে পারবেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) ওয়ান ব্যাংক পিএলসির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বাংলা কিউআর বাস্তবায়নের চার ধাপের রূপরেখা তুলে ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, গত ১ জুলাই থেকে বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) প্ল্যাটফর্মে প্রতি সেকেন্ডে ৩০০টি লেনদেন নিষ্পত্তির সক্ষমতা সফলভাবে যাচাই করা হয়েছে। একইসঙ্গে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে যেকোনো অঙ্কের অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সব ধরনের আন্তঃসংযোগ চার্জ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে শূন্য করা হয়েছে।
লেনদেনের সাম্প্রতিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করে গভর্নর জানান, চলতি বছরের জুনের প্রথম সপ্তাহে বাংলা কিউআরে যেখানে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল মাত্র ৩৭ কোটি টাকা, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে তা চার গুণেরও বেশি বেড়ে পৌঁছেছে ১৮০ কোটি টাকায়। তবে পুরো অর্থনীতিকে ক্যাশলেস করতে হলে দৈনিক লেনদেন অন্তত ৩ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হতে হবে। পাশাপাশি সরকারের ‘ডিজিটাল জনপরিকাঠামো’ বাস্তবায়নে ডিজিটাল পরিচয়, ডিজিটাল লেনদেন ও তথ্য বিনিময়ের সমন্বয়ে একটি কাগুজে নথিবিহীন স্মার্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সর্বজনীন উদ্যোগ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। গভর্নর জানান, গুগল, মেটা ও হুয়াওয়ের মতো শীর্ষ বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাংলা কিউআর প্ল্যাটফর্মের অগ্রগতিতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ডিজিটাল লেনদেনের এই যুগান্তকারী রূপান্তর তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত প্রান্তিক মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক মুদ্রাব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।