প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া সরকারি দাপ্তরিক কাজের গতি বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি সরকারি সভার কার্যবিবরণী স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরির উপযোগী এআই টুলস উদ্ভাবনের আহ্বান জানিয়েছেন। ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে সরকারি নথিপত্র ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া সরকারি সভার কার্যবিবরণী (Minutes of Meeting) স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরির জন্য বিশেষায়িত এআই মডেল তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন।
- সরকারি নথিপত্র ও প্রশাসনিক কাজে এআই ব্যবহারের মাধ্যমে সময় সাশ্রয় এবং দাপ্তরিক জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে সরকারি কর্মকর্তাদের এআই প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার জন্য প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, সরকারি সভার কার্যবিবরণী বা মিনিটস অব মিটিং তৈরির মতো জটিল ও সময়সাপেক্ষ কাজগুলো এআই-এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে প্রশাসনিক কাজের নির্ভুলতা বাড়বে এবং নথিপত্র ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আসবে।
বর্তমানে সরকারি দপ্তরে সভার কার্যবিবরণী তৈরি করতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটায়। এআই টুলস ব্যবহারের মাধ্যমে সভার অডিও বা ভিডিও রেকর্ড থেকে সরাসরি টেক্সট রূপান্তর এবং মূল সিদ্ধান্তগুলো সারসংক্ষেপ আকারে পাওয়ার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হলে তা সরকারি সেবার মান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। সরকার ইতিমধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ রূপান্তরের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, এআই-এর ব্যবহার সেই প্রক্রিয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি পর্যায়ে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সঠিক নীতিমালা ও শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা কাঠামো নিশ্চিত করতে পারলে এআই-এর মাধ্যমে সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব। মুখ্য সচিবের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের এআই প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার জন্য দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা জরুরি।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি দপ্তরে কাগজের ব্যবহার কমবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও দ্রুততর হবে। এটি কেবল প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াবে না, বরং সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি সেবা প্রাপ্তিকে আরও সহজ ও সুলভ করবে। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পথে সরকারি দপ্তরে এআই-এর এই প্রয়োগ একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।